নিহত কাউন্সিলর একরামের আর্থিক বিবরণী

|

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরাম কি ভালো মানুষ ছিলেন? নাকি মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন? তিনি কি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার? নাকি র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চান, দেশের অসংখ্য মানুষ। কিন্তু উত্তর এখনও অজানা।

অসংখ্য অজানা প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার আগে, তৈরি হয়েছে আরও প্রশ্ন। অনেকেই বলছেন, একরাম সৎ মানুষ ছিলেন। তিনি অবৈধ কোনো কিছুর সাথে জড়িত ছিলেন না। সর্বশেষ সম্পদের বিবরণী ও নির্বাচন কমিশনে দেয়া হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন, তার বাৎসরিক আয় গড়ে ১০ লাখ টাকা। ২০১৬ সালে পৌর নির্বাচনী হলফনামায় পেশা উল্লেখ করেন ব্যবসা। যদিও কিসের ব্যবসা তা লেখেননি হলফনামায়।

এতে দেখা যায়, তার একটি মটর সাইকেল, ১টি টিভি, ১টি ফ্রিজ, ১টি খাট, ২টি আলমিরা ও ২টি ফ্যান রয়েছে। নির্বাচনী হলফনামায় একরাম নিজের কোনো স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ নেই বলে জানিয়েছেন। তবে টেকনাফে যৌথ মালিকানাধীন একটি দুই তলা বাড়ি ও ১টি একক মালিকানাধীন নির্মাণাধীন বাড়ি রয়েছে। বছরে কীভাবে ১০ লাখ টাকা আয় করেন, সেটির উল্লেখ নেই হলফনামায়।

টেকনাফ আয়কর অফিস সূত্রে জানা গেছে, একরাম আয়কর রিটার্নে তাহিয়াদ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ট্রেড লাইসেন্স দিয়েছেন। টেকনাফ পৌরসভা থেকে ইস্যুকৃত ট্রেড লাইসেন্সে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা হিসেবে দেয়া হয়েছে তার বাড়ির ঠিকানা। তবে এ নামে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

টেকনাফ বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম জানান, কাউন্সিলর একরাম বণিক সমিতির সভাপতি ছিলেন। তার কোনো নির্দিষ্ট ব্যবসা নেই।’ তবে একরাম খুব সৎ জীবন যাপন করতেন ও ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেন আবদুল করিম।

টেকনাফ থানার ওসি রঞ্জিত বড়ুয়া জানান, টেকনাফে কেকে পাড়ার দোতলা বাড়িতে কাউন্সিলর একরামরা ৪ ভাই যৌথভাবে বসবাস করেন। এছাড়া একরামের নির্মাণাধীন একটি বাড়ি রয়েছে। তিনি আরও জানান, একরামের কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য পুলিশের কাছে নেই। আয়কর অফিসে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিবরণী দিলেও ঠিকানায় গিয়ে সেগুলোর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

যমুনা অনলাইন: আইকে/টিআই









Leave a reply