নারী ক্রিকেটারদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে কাল আলোচনা হবে: বিসিবি

|

একটি জয়েই আমূল বদলে গেছে দৃশ্যপট। আজ রোববার কুয়ালালামপুরে নারী এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সর্বত্র এখন হইচই। ‘হতদরিদ্র’ অবস্থায় দিন কাটানো নারী ক্রিকেটারদের বেতন বৃদ্ধি এখন সময়ের ব্যাপার। ইতোমধ্যে বিসিবির পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকেরই নারী ক্রিকেটারদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হবে।

ইএসপিএন’কে বিসিবির চিফ এক্সিকিউটিভ নিজামুদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, এশিয়া কাপে এই জয় বাংলাদেশে নারী ক্রিকেটের উন্নয়নে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। নারীদের নিয়ে এখন বোর্ডকে আলাদাভাবে ভাবতে হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে নারী দলের স্পন্সরশিপ জাতীয় দলের সাথে মিলিয়ে করা। কিন্তু এখন থেকে নারীদের জন্য আলাদা স্পন্সরশিপের চিন্তা করবে বিসিবি। ‘এখন তাদের নিজেদের পরিচিতি, এবং স্পন্সর আকর্ষণ করার সক্ষমতা হয়ে গেছে’, বললেন নিজামুদ্দিন চৌধুরী। তিনিই জানিয়েছেন, আগামীকালের বোর্ড মিটিংয়ে নারীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

বর্তমানে ১৭ জন নারী ক্রিকেটার বিসিবির সাথে চুক্তিবদ্ধ আছেন বেতনধারী হিসেবে। তাদের বেতন ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা। ছেলেদের ক্ষেত্রে এই অংক সর্বনিম্ন লাখের কোটায়।

ছেলেদের জাতীয় লিগে প্রথম স্তরে ম্যাচ ফি ২৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয় স্তরে ২০ হাজার। বিসিএলে ম্যাচ ফি ৫০ হাজার টাকা। মেয়েদের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচ ফি ৬০০ টাকা মাত্র!

আজকের ফাইনালে টান টান উত্তেজনাকর খেলায় বাংলাদেশ নারীদল ভারতকে হারায়। ভারতের দেয়া ১১৩ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ উইকেট হারিয়ে জয়ের রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

মালয়েশিয়ার কোয়ালালামপুরের কিনরারা একাডেমি ওভালে শুরু থেকে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের চেপে ধরেন তিন স্পিনার নাহিদা-সালমা আর খাদিজাতুল কুবরা। দলীয় ১১ রানে নাহিদার দূর্দান্ত থ্রু’তে রান আউটে কাটা পড়েন ওপেনার স্মৃতি। এরপর ৪ রান করা দীপ্তি শর্মাকে বোল্ড করেন পেসার জাহানারা আলম। থিঁতু হওয়ার আগেই আরেক ওপেনার মিতালি রাজকে তুলে নেন খাদিজাতুল কুবরা।

সুবিধা করতে পারেননি আনুজা পাতিল। ফিল্ডিংয়ে বাঁধা দেয়ার কারণে আউট হন তিনি। ভারতের স্কোর তখন ৩২ রান। এরপর ১১ রান করা বিদ্যাকে বোল্ড করেন অধিনায়ক সালমা। আর রুমানা আহমেদের জোড়া আঘাতে ৭ উইকেটে ৭৪ রানের দলে পরিণত হয় ভারত। এরপর ঝুলন গোস্বামীকে নিয়ে বিপর্যয় সামাল দেন হারমানপ্রীত।

১০ করে ঝুলন ফিরলেও অন্যপ্রান্তে অবিচল ছিলেন হারমানপ্রীত। ইনিংসের শেষ বলে ৫৬ রানে ভারতের এই অধিনায়ককে ২য় শিকারে পরিণত করেন খাদিজা। ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের হয়ে ভালো সূচনা করেন ২ ওপেনার শামিমা আর আয়শা। ৩৫ রানে পরপর এই ২ ওপেনারকে বিদায় করে ভারতকে ব্রেকথ্রু এনে দেন পুনম।
শেষ পর্যন্ত নারী এশিয়া কাপ ফাইনাল ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেট হারিয়ে ২০ ওভারে সংগ্রহ ১১২ রান করে ভারত।









Leave a reply