নারীদের নিরাপত্তায় ‘ছায়া বয়ফ্রেন্ড’

|

প্রায় ১৪ লাখ একাকী নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবার ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ হাতে নিয়েছে জাপানিরা। পর্দার পেছনে ছায়া ফেলে তৈরি করা হয় পুরুষের অবয়ব যা বাইরে থেকে দেখে বোঝা কঠিন যে ভেতরে কেউ নেই। উদ্ভাবকদের দাবি, নারীর প্রতি সহিংসতার পরিকল্পনাকারীরা এসব ছায়া দেখে ঘরে প্রবেশের আগে অন্তত দু’বার ভাববে। মনে করবে ভিতরে কোন পুুরুষ আছে।

টোকিওতে প্রায়ই দেখা মেলে বিভিন্ন ফ্ল্যাটে কর্মব্যস্ত পুরুষদের ছায়া। কর্মব্যস্ত দিনের শেষে তারা যেনে নারী সঙ্গীদের ঘরে ফেরার অপেক্ষায়। কিন্তু বাস্তবের চিত্র ভিন্ন। আদতে ঘরে কেউই নেই, প্রজেক্টরে নানারকম শারীরিক অঙ্গভঙ্গির ছায়া ফেলে তৈরি করা হয়েছে ধুম্রজাল। যাকে নাম দেয়া হয়েছে ‘ম্যান ইন কার্টেইন’। কিন্তু কেনো?

এই একা থাকা নারীদের একা ঘরে থাকতে ভয় লাগে বা  নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।  তাই ম্যান অন কার্টেইন অর্থাৎ পর্দার পেছনে মানুষের এই প্রযুক্তির ব্যবহার। যাতে করে একা থাকা নারীদের অন্যরা কেউ একা আছে এটা মনে না করে। আবার এসময় যেনো অপরাধীরা তাদের একা ভেবে আক্রমণ না করতে পারে।

সম্প্রতি জাপানের লিও প্যালেস টোয়েন্টি ওয়ান নামে একটি প্রতিষ্ঠান উদ্ভাবন করেছে এমন অভিনব কৌশল। টোকিওতে প্রায় ১৪ লাখ নারী একাকী বসবাস করেন। যাদের সুরক্ষা দিতেই এ উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একবার প্লে দিলে টানা ৩০ মিনিট চলবে ভিডিও। রয়েছে অটোমেটিক প্লে বাটনও।

লিওপ্যালেস কর্পোরেশনের প্রযুক্তিবিদ তাকুমা আওয়াতা বলেন, নারীদের আবাসস্থলের সুরক্ষা নিয়ে ভাবতে গিয়ে এমন আইডিয়া মাথায় আসে। শুরুতে সবুজ পর্দা ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছিলাম। পরে ছায়া ব্যবহার করার পরিকল্পনা হাতে নেই। কারণ এটি আরও জীবন্ত মনে হবে।

নারী অধিকার কর্মীরা মনে করছেন ব্যতিক্রমী এই সেবা টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদে নারীদের সুরক্ষা। অবশ্য এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে ; জানাচ্ছেন উদ্যোক্তারা

লিওপ্যালেস কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক কেইচি নাকামুরা বলেন, অপরাধীদের এটা বুঝতে সময় লাগবে না যে ছায়াটা কেবলই ধোঁকা মাত্র, ভেতরে আসলে কেউ নেই। তাই আমরাও সতর্ক। নড়াচড়াকে জীবন্ত করে তুলতে শব্দ সংযোজনের ব্যবস্থাও করা হবে।

ধীরে ধীরে জাপানের অন্যান্য বড় শহরগুলোতেও এ সেবা ছড়িয়ে দেয়ার প্রত্যয় ‘ম্যান ইন কার্টেইন’ এর উদ্ভাবকদের।









Leave a reply