ড্রাইভিংয়ের স্বাধীনতা পেলেন সৌদি নারীরা

|

অবশেষে সৌদি আরবে গাড়ি চালানোর অনুমতি পেলেন নারীরা। মঙ্গলবার, সৌদি বাদশাহ সালমানের জারি করা এক ডিক্রিতে নারীদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের অনুমতি দেয়া হয়। ডিক্রিতে বলা হয়েছে, ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের মন্ত্রীরা এ সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরি করবে। আর এই সুযোগ কার্যকর হবে ২০১৮ সালের জুন মাস থেকে।

রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির চেয়ারম্যান পদে থাকা যুবরাজ আল ওয়ালিদ বিন তালাল বহু বছর ধরে নারীদের অধিকারের দাবিতে সরব ছিলেন। গত বছর তিনি টুইটারে নারীদের গাড়ি চালানোর পক্ষে মত দেন। তখন থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক চলছিলো দেশটিতে। যুবরাজ তালাল এক বিবৃতি জানিয়েছিলেন, সৌদি নারীদের গাড়ি চালনা থেকে বিরত করার অর্থ তাকে শিক্ষা থেকে বিরত করার মতই অবমাননাকর। অন্যদিকে, ‘মেয়েদের গাড়ি চালানোর মত বুদ্ধি নেই’- বলে ক’দিন আগেই মন্তব্য করেন এক ধর্মীয় নেতা। এসব নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছিলো সৌদিতে।

সৌদি নারীরা বিভিন্ন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে তাদের গাড়ি চালানোর নিষেধাজ্ঞা দূর করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন বহুদিন ধরেই। এবছর এপ্রিলেও গাড়ি চালানোর দাবিতে নীরব প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন সৌদি নারীরা। প্রতিবাদ কর্মসূচি নিষিদ্ধ, তাই নীরবে হেটে কিংবা সাইকেল চালিয়ে প্রতিবাদ করেন একদল সৌদি নারী। অনলাইন ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে নিজেরাই সেগুলোর ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তারা।

এমনকি গাড়ি চালানোয় সৌদি নারী মানালকে ৯ দিন কারাভোগ করতে হয়েছিল। ডেইলি মেইল অস্ট্রেলিয়াকে মানাল বলেন, একটি রক্ষণশীল সমাজ থেকে উঠে এসেছেন তিনি। তাদের ঘরের জানালা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হতো। বাড়ির চারদিক উঁচু দেয়ালে ঘেরা। নারীদের ঢেকে রাখা হতো। পুরুষ অভিভাবকদের অনুমতি ছাড়া সৌদি আরবে নারীদের জন্য কিছু করা খুবই কঠিন। ২০১১ সালে মানাল তার গাড়ি চালানোর একটি ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করলে তা ব্যাপক সাড়া ফেলে। এক দিনে সাত লাখ মানুষ ভিডিওটি দেখে। ভিডিও প্রকাশের পর জীবননাশের হুমকি পান মানাল। তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলে অভিহিত করা হয়। তার বিরুদ্ধে মুসলমানদের ভুল পথে নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। কারাদণ্ড হওয়ার পর মানাল তার বাড়ি, সন্তান ও চাকরিও হারান। পরে দ্বিতীয় স্বামী ও ছোট সন্তানকে নিয়ে সিডনিতে স্থায়ী হন। মানালের স্মৃতিকথা ‘ডারলিং টু ড্রাইভ’- এতে তার অভিজ্ঞতার বর্ণনা রয়েছে।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। উল্লেখ্য, বিশ্বে সৌদি আরবই একমাত্র দেশ যেখানে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি নেই।

যমুনা অনলাইন: আরএএম









Leave a reply