ব্রেক্সিট ইস্যুতে টালমাটাল যুক্তরাজ্য সরকার

|

ব্রেক্সিট ইস্যুতে ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করছে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি। ইইউ থেকে বিচ্ছেদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে ব্রেক্সিট বিষয়ক মন্ত্রী ডেভিড ডেভিসের পদত্যাগের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনও পদত্যাগ করায় বড় ধরনের সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। টালমাটাল হয়ে পড়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।

জোট নেতারা বলছেন, মন্ত্রিসভায় রদবদলের কারণে ঘোলাটে হয়ে গেলো ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি। যার প্রভাব পড়বে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য সম্পর্কে। তবে, যেকোনো মূল্যে ব্রেক্সিট কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে।

খামখেয়ালি আর কট্টরপন্থি আচরণের কারণে বরাবরই আলোচনায় ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ বরিস জনসন। ব্রেক্সিটের পক্ষে থাকলেও, তা বাস্তবায়নের পন্থা নিয়ে শুরু থেকেই সরকারের সাথে বনিবনা হচ্ছিলো না তার। সোমবার সরকার থেকে বেরিয়ে যান বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক। ঠিক একদিন আগে, একই সিদ্ধান্ত নেন ব্রেক্সিট বিষয়ক মন্ত্রী ডেভিড ডেভিস।

যুক্তরাজ্যের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে জানিয়ে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, যুক্তরাজ্যের জ্যেষ্ঠ দুইজন মন্ত্রীর পদত্যাগের ফলে পরিস্থিতি যে আরো ঘোলাটে হচ্ছে, তাতে সন্দেহ নেই। আর এই জটিলতা, জোটের কাজকেও বাধাগ্রস্ত করছে।

গুরুত্বপূর্ণ দুই মন্ত্রীকে হারিয়ে ব্রেক্সিট ইস্যুতে স্বভাবতই চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। কিন্তু তার দাবি, ‘হার্ড ব্রেক্সিট গ্রুপ’ নেতারা মন্ত্রিসভা ছাড়লেও ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে তার প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, ব্রেক্সিট জনগণের ইস্যু। তারা ভোট দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষের এই চাওয়াকে বাস্তবায়ন করতে আমরা ক্ষমতায় এসেছি। তাই যেকোনো মূল্যে ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করা হবে।

সপ্তাহের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র ব্রেক্সিট বিষয়ক পরিকল্পনার অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। যাতে বলা হয়, জোট থেকে বেরিয়ে গেলেও ইইউ’র সাথে নিবিড় বাণিজ্যিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখবে যুক্তরাজ্য। অর্থাৎ, ইইউ ছাড়লেও পুরোনো বাণিজ্য নীতি বহাল থাকবে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন কট্টর বা হার্ড বেক্সিট গ্রুপ। যদিও এ পরিস্থিতিতে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে শতভাগ আশাবাদী নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা।

যুক্তরাজ্যের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট বলেন, অবশ্যই আমার মূল লক্ষ্য হবে ব্রেক্সিট কার্যকর। বিশেষভাবে, এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে অন্যান্য যে বাধাগুলো রয়েছে সেগুলোর সমাধানও করা হবে। সেই সাথে ব্রিটেনের পররাষ্ট্রনীতিকে নতুনভাবে সাজানো হবে। সেক্ষেত্রে বরিস জনসনকেও অনুসরণ করবো আমি।

২০১৬ সালে গণভোটের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাজ্য। ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ জোট ছাড়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন নিয়ে শুরু হয়েছে জটিলতা।

যমুনা অনলাইন: টিএফ









Leave a reply