শিরোপা গেলো ফ্রান্সে

|

রাশিয়া বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নিলো ফ্রান্স। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারায় তারা। এরই মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপাটি অর্জন করলো ফ্রান্স।

এর আগে রাত ৯টায় আর্জেন্টাইন রেফারি নেস্তর পিতানার কিকঅফ বাঁশির সাথে খেলাটা শুরু করে ক্রোয়েশিয়া। বল পসেশন ধরে রেখে রেবিচ-মদ্রিচরা বেশ কয়েকবার হানা দেন ভারানে-উমতিতির রক্ষণে।

কিন্ত ১৮ মিনিটে গ্রিজম্যানের উড়ে আসা ফ্রি-কিক, নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন সেমিফাইনালে দারুণ এক গোল করে ফাইনালে তোলা ক্রোয়াট স্ট্রাইকার মানজুকিচ।

আত্মঘাতী গোলই হোক আর যাই হোক প্রথমে গোল খাওয়া যেন ক্রোয়েশিয়ার ভবিতব্য। আর তাই লড়িয়ে ক্রোয়েশিয়ার গোল শোধ করতে সময় লাগেনি। এই গোলের উৎসও একটি ফ্রি-কিক। ২৮ মিনিটে জটলার মধ্য থেকে পেরিসিচের কোনাকুনি শট ঢুকে যায় জালে, আর তাই দাঁড়িয়ে দেখেন লরিস।

কিন্তু ভাগ্য সহায় থাকলে যে ফাইনালের মত বড় মঞ্চে তা দ্বিতীয়বার মুখ তুলে চায়, তার প্রমাণ ফ্রান্স। লুঝনিকির সমর্থন তাদের দিকে কম হলেও, ফুটবল বিধাতার বর তো আর কম নেই। তা না হলে গ্রিজম্যানের এই কর্নার উড়ে এসে পেরিসিচের হাতে লাগবেই বা কেন, আর ভিএআর দেখে রেফারি পেনাল্টিই বা দেবেন কেন?

পেনাল্টি থেকে গ্রিজম্যানের গোল পেতে আর ফ্রান্সকে আবারও লিড এনে দিতে সমস্যায়ই হয়নি।
৩৮ মিনিটের ঐ গোলের পর ক্রোয়েশিয়ার গোল পরিশোধের চেষ্টাগুলো লুঝনিকির আকাশের মেঘ-বৃষ্টির আনাগোনায় হারিয়ে যায়, ৭৮ হাজার দর্শকের বড় অংশের হতাশা বাড়ে।

ফরাসি ডিফেন্সকে নাচিয়েও গোল বের করা কঠিন হয়ে পড়ে ক্রোয়েশিয়ার জন্য। ৪৭ মিনিটে রেবিচের যে শটটি ফিস্ট করে ফ্রান্সকে বাঁচান লরিস, তা ফাইনালের সেরা সেইভ।

৫১ মিনিটে গতির ঝড় তুলেও, ফ্রান্সের লিড বড় করতে পারেননি এমবাপ্পে। তবে পুরো ম্যাচেই ছিলেন ভয়ংকর। সেই সুযোগে কাজের কাজটি করে ফেলেন পল পগবা। কাউন্টার এটাক থেকে ৩-১’র লিড নেয় ফ্রান্স।

পগবা গোল করবেন, আর এমবাপ্পে তাকিয়ে দেখবেন তা তো আর হয় না। ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্স যেন ভাংগা বেড়া, ৫৮’র ফাইনালে পেলের পর সবচে কম বয়সে গোল করার রেকর্ড গড়েন তিনি। সেটা বুঝতে পেরেই দিদিয়ের দেশামের এই হাসি আর আনন্দ।

তবে লরিসের অধিক আত্মবিশ্বাসের সুযোগ নেন, মানজুকিচ। তাকে বোকা বানিয়ে বল জড়িয়ে দেন জালে। ব্যাক পাসের মাশুল গোনেন জিরু।

তবে এই ভুলের আর পুনরাবৃত্তি করতে দেননি অধিয়াকের পর কোচ হিসেবে বিশবকাপ জেতা দেশাম। রক্ষণে পাহারা বাড়িয়ে, বিশবকাপ জেতার বাকি কাজটুকু সেরে ফেলেন লা ব্লু কোচ।









Leave a reply