চৌর্যবৃত্তির অপরাধে দুষ্ট পাঠ্যবই

|

নূরনবী সরকার:

আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় প্লেইজারিজম বা চৌর্যবৃত্তি অপরাধ। এবার সেই দোষে দুষ্ট জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) দুইটি পাঠ্যবই। নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে লেখা সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান ‘ইনভেস্টিগেটিভ স্টাডি’ বইয়ের একটি অংশে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এডুকেশনালের ওয়েবসাইট থেকে হুবুহু বসিয়ে দেয়া এবং এর বাংলা সংস্করণ ‘অনুসন্ধানী পাঠ’ বইয়ে গুগল ট্রান্সলেট থেকে মানহীন বাংলা অনুবাদের অভিযোগ উঠেছে।

এই ভুল অবশ্য স্বীকার করেছেন বইটির সম্পাদনাকারী অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। অসঙ্গতি পাওয়া গেছে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইয়েও। অভিযোগ আছে, বইয়ে তথ্য ও ছবি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কোনো অনুমোদন নেয়া হয়নি। এদিকে, ভুলগুলো সংশোধনের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যায়ের গবেষক ড. নাদিম মাহমুদ বলেন, প্লেইজারিজমের যে বিষয়টি আসছে, এই কাজে যুক্ত সকলেই পিইচডি করেছেন একজন ব্যতীত। তাই উনারা এসব বিষয়ে অবগত। অসাবধানতাবশত ভুল হলে একটি শব্দ বা দুইটি হতো। আমি মনে করি, এটা ইচ্ছাকৃতভাবে হয়েছে। এই যে ছবি নেয়া হয়েছে, এগুলোর ক্রেডিট দেবে কে? ক্রেডিট না দিলে উনারা কী তা কিনে নিয়েছে? আমি মনে করি না, সেটি করেছে।

বইটির সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। এ নিয়ে দেয়া এক বিবৃতিতে সম্পাদক হিসেবে অভিযোগের দায় স্বীকার করেছেন তিনি। তবে জানিয়েছেন, তিনি বিতর্কিত অংশটির লেখক তিনি নন।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, পুরো বইটি না, একটি নির্দিষ্ট চ্যাপ্টারের কয়েকটি অংশ ওয়বসাইট থেকে তুলে দেয়া হয়েছে। দুই জায়গায় হুবুহু তোলা হয়েছে। আর দুই জায়গায় আংশিক তোলা হয়েছে। অবশ্যই বলতে হয়, দুইটি প্যারাগ্রাফ প্লেইজারিজমের আওতায় পড়ে।

ষষ্ঠ শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান পাঠ্যবইয়ের ৯৮ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি তুরস্কের বাসিন্দা। তবে বাংলাপিডিয়া বলছে খলজি আফগানিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন। সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান পাঠ্যবইয়ের ৫ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে, ইলামিত্র বৃটিশ আন্দোলনের নেত্রী। তবে ইতিহাসে তিনি তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে পরিচিত, আর তা হয় পাকিস্তান আমলে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আকসাদুল আলম বলেন, কোথায় যে সর্ষের ভূত, এটা বোধহয় গভীয় চিন্তার বিষয়; সর্বশেষ কারা সম্পাদনা করছেন, কাদের হাত থেকে প্রেসে যাচ্ছে। আমার মনে হয় প্রুফের ভুল হতে পারে; আমি জানি না অনিচ্ছাকৃত কিনা বা ইচ্ছাকৃতও হতে পারে। এ রকম ভুলের উদাহরণ তো অনেক আছে।

এ রকম নানা ভুল সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে এনসিটিবি। তারপর সেগুলো সংশোধনী আকারে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হবে বলে জানাচ্ছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম।

এনসিটিবি বলছে, আগামী বছর থেকে এই ভুলগুলো সংশোধন করে নির্ভুল ও মানসম্মত পাঠ্যবই ছাপানো হবে।

/এমএন


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply