ইমরানকে ক্ষমতায় বসানোর প্লট ২-৩ বছর আগেই সাজানো!

|

পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক ইমরান খান, এটা এখন অবধারিত। ইমরানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির জয় নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা আছে। এবার তাতে ‘ঘি’ ঢাললেন ইমরানের দ্বিতীয় স্ত্রী, সাংবাদিক রেহাম খান। বলেছেন, ইমরানের দলের জয়ের পেছনে সেনাবাহিনীর হাত রয়েছে। ইমরান হবেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ‘আদর্শ হাতের পুতুল’। সেনাবাহিনী যা যা বলবে, তাই তাই করতে হবে ইমরানকে। শুধু তাই নয়, রেহামের মতে, ইমরানকে ক্ষমতায় বসানোর প্লট সাজানো হয়েছে নাকি দুই-তিন বছর আগেই!

ভারতের ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকার সাংবাদিক সুহাসিনি হায়দারকে লন্ডন থেকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে এসব দাবি করেন রেহাম। দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে রেহাম বলেন, নির্বাচনে জালিয়াতির সবটুকু সুবিধা পেয়েছে ইমরানের দল। পররাষ্ট্রনীতি, ভারতের সাথে সম্পর্ক থেকে শুরু করে পাকিস্তানের সব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সেনাবাহিনীর ইচ্ছানুযায়ীই কাজ করতে বাধ্য হবেন ইমরান।

রেহাম বলেন, আমি আগেই জানতাম নির্বাচনের ফল কী হবে। যদি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতো, তাহলে ইমরান কোনোভাবেই জিততে পারতেন না।

রেহামের মতে, যারাই পাকিস্তানের ক্ষমতায় এসেছে, তারা সবাই সেনাবাহিনীর আর্শীবাদে পেয়েই তবে এসেছে। ২০১৩ সালে নওয়াজ শরিফকে সেনা মদদপুষ্ট বলে উল্লেখ করেন ইমরান। তখনই, নাকি ইমরান বুঝতে পেরেছেন বিষয়টা আসলে কেমন।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে চেষ্টা, চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর চালুসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কারণেই নাকি নওয়াজ শরিফের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সেনাবাহিনী। এই সময়ে ইমরান হয়ে ওঠেন তাদের হাতের পুতুল। তাকে জেতানোর বিষয়টি ২-৩ বছর আগেই ঠিক হয়ে যায়।

রেহাম কথা বলেছেন তার প্রকাশিত বই নিয়েও যেখানে ইমরানকে মিথ্যাবাদী, বেরোজদার, ভণ্ড বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, দলে বড় পদ দেওয়ার লোভ দেখিয়ে নারী কর্মীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কও স্থাপনের গুরুতর অভিযোগও এনেছেন ইমরানের বিরুদ্ধে। তার এই বইয়ের পেছনে রাজনৈতিক এজেন্ডা আছে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে রেহাম বলেন, অনেকেই বলেছেন, বইটি নওয়াজ শরিফের পক্ষে আমি লিখেছি। কিন্তু কথাটি অসত্য। সাংবাদিক হিসেবে আমি নওয়াজ শরিফকে প্রথমবার চিনতে পারি তার সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময়। ইমরানের বিরুদ্ধে বা পক্ষে নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর জন্য আমি বই লিখিনি।

ইমরানের সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ প্রসঙ্গ টেনে রেহাম বলেন, আমি জেমিমার মতো হতে চাইনি। আমি যখন ইমরানকে বিয়ে করেছিলাম তখন তিন নির্বাচনে জয় পেতেন না। আমি একজন আত্মনির্ভরশীল নারী। ইমরান যখন ব্লাসফেমি আইন নিয়ে ভণ্ডামি করেন, তার দল সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে, তখন থেকেই আমি তার পাশে আর থাকতে চাইনি।

ভবিষ্যতে রাজনীতিতে যোগ দেবেন কি না এমন প্রশ্নে যুক্তরাজ্যে থাকা রেহাম হেসে উত্তর দেন, পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে আমি বাঁচতে পারি না। আমি ফিরব।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের ১১-তম সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ। পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খুব শীঘ্রই শপথ নেওয়ার কথা ইমরান খানের।

যমুনা অনলাইন:টিএফ









Leave a reply