কুর্দিস্তানে সামরিক অভিযানে যাচ্ছে ইরাক-ইরান-তুরস্ক?

|

কুর্দিস্তানের সদ্য সমাপ্ত গণভোট নিয়ে নতুনভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে মধপ্রাচ্য। গত বুধবার অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘স্বাধীনতা’র পক্ষে শতকরা ৯৩ ভাগ ভোট পড়েছে বলে দাবি করেছেন কুর্দি নেতারা। বারবার হুঁশিয়ার করে দেয়ার পর গণভোট আয়োজন থেকে পিছু না হটায় বর্তমানে ইরাকের স্বায়ত্ত্বশাসিত এই এলাকার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে ইরাক, ইরান ও তুরস্ক। সীমান্তবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়া এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান না নিলেও ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিবেশী তিন দেশের সরকারের সাথেই সুর মেলাবে দামেস্ক।

ইরাক সরকার ইতোমধ্যে কুর্দিস্তানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়ে রেখেছে। তুরস্ক এবং ইরানও একই রকম চিন্তাভাবনা করছে বললে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সেক্ষেত্রে ইরাক সরকারের সামরিক পদক্ষেপে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করতে পারে প্রতিবেশী দেশ দু’টি।

শুক্রবার থেকে কুর্দিস্তানের দু’টি বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইরাক সরকার। এর প্রেক্ষিতে বড় বড় বিমান সংস্থাগুলো তাদের ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ইরান ও তুরস্কের সাথে থাকা কুর্দিস্তান সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে চায় হায়দার আল আবাদির সরকার।

এদিকে ইরাকের উত্তরাঞ্চলের দহুক এলাকায় তুর্কি সেনাদের সাথে গোলাগুলিতে তিন কুর্দি বিদ্রোহী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ওই এলাকায় ইরাক ও তুরস্কের সেনাবাহিনীর যৌথ মহড়ার সময় এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। কুর্দিস্তানের সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্যই বাগদাদ ও আংকারা যৌথ সেনা মহড়া চালাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জোরালো সমর্থন চেয়ে তেহরানেও প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী।

শুক্রবার ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান ও তুরস্কের সাথে মিলে যৌথ পদক্ষেপের মাধ্যমে কুর্দিস্তানের সীমানার নিয়ন্ত্রণ নেবে বাগদাদ। এই ‘যৌথ পদক্ষেপ’ এর ধরণ কেমন হবে তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়া না হলেও এটি যে, যে কোনো মাত্রার সামরিক অভিযান হবে তা বুঝা যাচ্ছে। সীমান্ত পোস্টগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইলে তাতে কুর্দি বিদ্রোহীরা বাধা দিতে পারে। এতে ওই অঞ্চলে নতুন সংঘাতের সূত্রপাত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরাকের কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলের স্বাধীনতাকে তুরস্ক, সিরিয়া ও ইরানের নিজেদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে হুমকি মনে করে। এই তিনটি দেশেই কুর্দি অধ্যুষিত সীমান্তবর্তী এলাকা রয়েছে। এর মধ্যে তুরস্কের অংশ কয়েক দশক ধরে বিচ্ছিন্নতবাদী আন্দোলন চলছে। কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা চায় ইরাক ছাড়াও ইরান, তুরস্ক ও সিরিয়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ৩ কোটি কুর্দি জনগোষ্ঠিকে নিয়ে নতুন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

মধ্যপ্রাচ্যে চতুর্থ বৃহৎ জনগোষ্ঠী হল কুর্দি। কিন্তু তাদের স্থায়ী কোনও রাষ্ট্র কখনওই ছিল না। ইরাকে মোট জনগোষ্ঠীর ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কুর্দি। ১৯৯১ সালে স্বায়ত্তশাসন পাওয়ার আগ পর্যন্ত কয়েক দশক ধরে তাদের দমন-নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে তাদেরকে।

/কিউএস









Leave a reply