এক কেজি সদাই কিনতে বেরিয়ে যায় কোটি টাকা!

|

বাজারে গেলেন বস্তা ভর্তি কোটি টাকা নিয়ে। কিন্তু সেই টাকায় কিনতে পারছেন মাত্র কেজি খানেক সদাই। এমন দৃশ্য চিন্তা করতে পারছেন কি? হ্যা, ভেনেজুয়েলার বাসিন্দাদের এমন অবস্থার মধ্য দিয়েই দিন পার করতে হচ্ছে। সেখানকার নিত্যপ্রয়োজনীয় খুঁটিনাটি জিনিসের দাম এখন আকাশছোঁয়া।

এক কেজি চাল কিনতে দোকানিকে দিতে হচ্ছে ২৫ লাখ বলিভার। এক প্যাকেট স্যানিটারি প্যাডের মূল্য ৩৫ লাখ। এক কেজি পনির পেতে খরচ করতে হচ্ছে ৭৫ লাখ বলিভার। একটি সাবানের মূল্য ৩৫ লাখ বলিভার। যে গাজর ছাড়া একবেলাও চলতো না ভেনেজুয়েলাবাসীর সেই গাজর কিনতে কেজি প্রতি দিতে হচ্ছে ৩০ লাখ বলিভার। আর মাংস তো ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়েছে। দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের মুরগির দাম ১ কোটি ৪৬ লাখ বলিভার।

মুদ্রাস্ফীতির কারণে দেশটির মুদ্রার মান কমে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বস্তা বস্তা টাকা নিয়েও কিনতে পারছেন না প্রয়োজনীয় সব উপকরণ।

বেশ কয়েকবছর ধরে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গত সপ্তাহে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ভেনিজুয়েলার মুদ্রা বলিভারের দাম কমিয়ে দেন। এর ফলে পরিস্থিতি আরো ভয়ানক রূপ ধারণ করে। এ ঘোষণা পর মুদ্রাস্ফীতির লাগাম টেনে ধরার বদলে লাগাম যেন ছিড়ে গেছে।

দেশটিতে এখন ১ ডলার সমান ২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। চলতি বছরের মধ্যে সেখানে ১০ লাখ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।

বেহাল অর্থনীতির কারণে দেশটির ছোট-বড় শপিংমলগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। মালিকরা তাদের কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছেন না। এছাড়াও দেশটিতে দেখা দিয়েছে ঔষধ সংকট।

ভেনেজুয়েলার অর্থনীতির মোটা অংক আসে তেল থেকে। রফতানি আয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ যোগান দিতো এই তেল। যার কারণে দেশটির শাসকরা তেল বিক্রির টাকা দিয়েই দেশ চালাতো। ফলে দেশের অন্যান্য খাত (কৃষি, শিল্প) অবহেলায় রয়ে যায়। সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ ২০১৩ সালে মারা যান। এর আগে তার সরকার দেশটির সব খাতকে রাষ্ট্রায়ত্ত করে ফেলেন। ফলে বছর বছর ওই সব খাতে ঘাটতি দিয়ে চালাতে হয়েছে সরকারকে।

কিন্তু মাদুরো প্রেসিডেন্ট হয়েই ক্ষমতা কুক্ষিগত করার দিকে নজর দেন। বিরোধীদের দমনে মনযোগী হন। এদিকে বিশ্ব বাজারে তেলের দামও পড়ে যায়। ফলে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রায় ঘাটতি শুরু হয়।

অর্থনীতিবিদরা ভেনেজুয়েলার এই অবস্থাকে তুলনা করেছেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯২২ সালে বিধ্বস্ত জার্মান অর্থনীতির সঙ্গে। তখন সেখানে ১ ডলারের দাম ছিলো ৪ লাখ ২১ হাজার কোটি মার্ক।

যমুনা অনলাইন:এফএম









Leave a reply