শ্রীপুরে স্ত্রীকে ছুরি মেরে স্বামীর আত্মহত্যা

|

গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া পশ্চিম খণ্ড (দারগারচালা) গ্রামে স্বামী ছুরিকাঘাতে স্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। এসময় স্বামী নিজেই নিজ গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার হাসপাতালে নেয়ার পথে স্বামী মারা যায় ও স্ত্রীকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এঘটনা ঘটে। নিহত মোর্শেদ আলম (২৩) নরসিংদী জেলার পলাশ থানার তারগাঁও গ্রামের সিরাজ সরকারের ছেলে। স্বপ্না আক্তার (২০) কেওয়া পশ্চিম খণ্ড গ্রামের বাচ্চু মিয়ার মেয়ে। মোর্শেদ আলমের সাথে স্বপ্নার প্রায় সাত বছর আগে প্রেমের সম্পর্কে পরিবারের অমতে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মোর্শেদ তার স্ত্রীসহ তার শ্বশুড়বাড়িতে বসবাস করে এবং স্থানীয় টি ডিজাইন নামক কারখানায় কাজ করে। স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বেড়াইদেরচালা গ্রামের এসকিউ সেলসিয়াস লিমিটেড নামের কারখানায় চাকরি করতো।

স্বপ্নার ভাই মো. শাহজালাল জানান, গত সাত বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে স্বপ্না ও মোর্শেদ আলমের বিয়ে হয়। বিয়ের বিষয়টি ছেলের পরিবার মেনে না নেয়ায় মেয়ের বাড়িতেই তারা বসবাস করত। বিভিন্ন সময় নানা কারণে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। শনিবার সকালে তাঁরা দুজনই কারখানার কাজে যোগ দেয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়। বাড়ি থেকে সড়ক ধরে হেটে কিছু দূর যাওয়ার পরই উভয়ের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এরই এক পর্যায়ে স্বামী তার সাথে থাকা ছুরি দিয়ে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করেন। এসময় স্ত্রী মাটিতে পড়ে গেলে একই ছুরি দিয়ে নিজের গলায় আঘাত করেন মোর্শেদ আলম। এ ঘটনা পথচারীরা দেখতে পেয়ে ডাকচিৎকার শুরু করলে স্বজনরা এসে দুজনকে উদ্ধার করেন।

পরে স্থানীয়রা মোর্শেদকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। গুরুতর আহত স্বপ্নাকে উদ্ধার করে প্রথম মাওনার একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক রায়হান জানান, মোর্শেদকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ ইসলাম জানান, কিভাবে ঘটনা কিভাবে হলো বা এর সাথে আরও কেউ সম্পৃক্ত আছে কিনা, তার বের করতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।









Leave a reply