প্রেম করে বিয়ে করেছি, আদালতে বিসিএসে উত্তীর্ণ সেই সিনথিয়ার জবানবন্দি

|

কামাল হোসাইন, নেত্রকোণা

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় গত কয়েকদিন ধরে ৩৭ তম বিসিএস এ উর্ত্তীণ তাসলিমা সুলতানা সিনথিয়া অপহরণ মামলাকে কেন্দ্র করে চলছিল আলোচনা আর সমালোচনা। সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর অপহৃতা নিজেই হাজির হয়ে নেত্রকোণা জেলা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতে সিনথিয়া বলেছেন,তাঁর নিজের ইচ্ছেমতেই রাতুল হাসান বাবুর সাথে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে বিয়ে হয়েছে, তাকে কেউ অপহরণ করেনি।

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার প্রয়াত মেয়র আব্দুল হক ভূইয়ার ছোট ছেলে রাতুল হাসান বাবুর সাথে সিনথিয়া গত ১১ ই আগস্ট রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। কিন্তু বিয়ের ১ মাস ৯ দিন পর বিসিএস এ উত্তীর্ন এই নারীকে অপহরণের অভিযোগ এনে গত ১৯ সেপ্টেম্বর কেন্দুয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন সিনথিয়ার মা রাজিয়া সুলতানা।

এঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার সিনথিয়ার মা রাজিয়া ও বাবা সুলতান আহম্মেদ তার কন্যা সিনথিয়াকে উদ্ধারের দাবিতে থানায় অবস্থান নিয়েছিলো, সেদিন সিনথিয়ার মা-বাবার দাবি করেছিল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ১৮ সেপ্টেম্বর কেন্দুয়া পৌর শহরের আরামবাগ বাসা থেকে সিনথিয়াকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

রাজিয়া সুলতানা মামলায় উল্লেখ করেন, কেন্দুয়া পৌরসভার প্রয়াত মেয়র আব্দুল হক ভূইয়ার ছোট ছেলে বর্তমান পৌরমেয়র আসাদুল হক ভূইয়ার ভাতিজা রাতুল হাসান বাবু অপর ভাতিজা সাফিম,ভাগ্নে জুনায়েদ, পুলক ও কাউরাট গ্রামের মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা আরো ১৫/২০ জন তার কন্যা সিনথিয়াকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়। সিনথিয়া কেন্দুয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন ভূইয়ার ভাগ্নি। মামলা দায়েরের পর থেকেই এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। মামলা দায়েরের পর থেকে বিভিন্ন,পত্র-পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর আলোচনার মাত্রা বেড়ে যায়।

মামলা দায়েরের পর কেন্দুয়া পৌর মেয়র আসাদুল হক ভূইয়া সাংবাদিকদের জানান, এটি কোন অপহরণের ঘটনা নয়, তাসলিমা সুলতানা সিনথিয়া দীর্ঘদিন ধরেই রাতুল হাসান বাবুর সাথে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল এ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত করতেই ছেলে-মেয়ে দুজনে মিলে চলতি বছরের ১১ ই আগস্ট ঢাকায় কাজী অফিসে ৩ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিয়ের পর সিনিথিয়া তার বাবার বাড়িতে যায়। সিনথিয়াকে বধূ হিসেবে বরণ করার জন্য মেয়ের পক্ষের কাছে ছেলে পক্ষ প্রস্তাব দিয়েছিলো। কিন্তু সেই প্রস্থাব প্রত্যাখ্যান করে কেন্দুয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন সিনথিয়ার মা রাজিয়া সুলতানা।

মেয়র আসাদুল হক ভূইয়া আরো বলেন, আমাদেরকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ছেলে-মেয়ের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়ে স্বীকৃতি না দিয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

সোমবার সকল নাটকের অবসান ঘটিয়ে সিনথিয়া নিজেই নেত্রকোণা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থিত হয়ে তার মতামত আদালতকে জানিয়েছেন। আদালতকে সিনথিয়া বলেছেন, তাঁর নিজের ইচ্ছেমতেই রাতুল হাসান বাবুর সাথে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে বিয়ে হয়েছে, তাকে কেউ অপহরণ করেনি। আদালত তার বক্তব্য গ্রহণের পর তাঁর নিজের জিম্মায় তাঁকে ছেড়ে দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ইমারত হোসেন গাজী জানান, রাতুল হাসান বাবুর সাথে সিনথিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের মাধ্যমেই তাদের রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে বিয়ে হয়। তাঁকে কেউ অপহরণ করেনি। সিনথিয়া নিজের ইচ্ছাই স্বামীর সাথে চলে গিয়েছিল।









Leave a reply