অপরাধী মন না থাকলে, উদ্বেগ হওয়ার কোনও কারণ নেই: প্রধানমন্ত্রী

|

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সাংবাদিকদের উদ্বেগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারও যদি অপরাধী মন না থাকে, বা ভবিষ্যতে কিছু অপরাধ করবে এরকম পরিকল্পনা না থাকে; তার উদ্বেগ হওয়ার কোনও কারণ নেই। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগদান নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সাংবাদিকরা খুব উদ্বিগ্ন, আমি বুঝলাম। কিন্তু আমাদের উদ্বেগটা দেখবে কে। বা যারা এরকম ভিকটিমাইজ হচ্ছে, তাদের উদ্বেগটা কে দেখবে। আর তাদের কীভাবে কম্পোনসেট করবেন। ওই জায়গাট একটু কমতি আছে। যেটা ইংল্যান্ডের আইনে আছে। আমরা এটা করার আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনগুলো দেখেছি। আইনগুলো দেখা হয়নি, তা নয়। তারপর এটা অনলাইনে ছিল। এটা সকলের সঙ্গে আলোচনাও হয়ে গেছে। এরপর এসে হঠাৎ এত উদ্বেগ হয়ে গেলেন কিসের জন্য। আমার কাছে সেটা প্রশ্ন। আগে তো সমন জারি করা হতো, সরাসরি গ্রেফতার করা হতো। আমি সেটা পরিবর্তন করে দেইনি। আগে তো ছট করে ধরে নিতো। আপনার সাংবাদিকরা যাদের কাছে নির্যাতিত হয়েছেন। তাদের জন্য কি করতে পেরেছেন। আর আপনার এখন উদ্বিগ্ন। আমার যেটা মনে হয়েছে। বৈঠকের পর বৈঠক। বৈঠকে আমি এমন এম মানুষ দেখেছি। মানে লেখা তৈরি করে বসে আছে। একটার পর একটা লেখা আমার বিরুদ্ধে চালাবে। উদ্বিগ্ন হবে তারা। আপনাদের তো উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। অন্তত আমি যত দিন আছি। আপনাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখানে স্পষ্ট বলবো- যে সাংবাদিকরা মনে করে তারা কোনও অন্যায় কাজ করে না, কারও বিরুদ্ধে অপবাদ বা মিথ্যা তথ্য দেবে না বা বিভ্রান্ত করবে না; তাদের উদ্বেগ হওয়ার কিছু নাই। সেখানে আইনের যেটা দেওয়া আছে, সিআরপিসিতে যা আছে-তাই দেওয়া আছে।

ঢাকা থেকে গত ২১ সেপ্টেম্বর রওনা হয়ে দুদিন লন্ডনে কাটিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। আর গত সোমবার তিনি দেশে ফেরেন। এ সফরে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান রোহিঙ্গা সংকট, সাইবার নিরাপত্তা, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, নারীর ক্ষমতায়ন, নারী শিক্ষা এবং বৈশ্বিক মাদকদ্রব্য সমস্যা নিয়ে কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ইন্টার প্রেস সার্ভিস (আইপিএস) প্রদত্ত সম্মানজনক ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করেন।

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নাগরিককে আশ্রয়দানের মাধ্যমে মানবিকতার উদাহরণ সৃষ্টি করায় তাকে এ পদকে ভূষিত করা হয়।









Leave a reply