খাশোগিকে হত্যার জন্য বিশেষ টিম পাঠিয়েছিলো সৌদি সরকার

|

সৌদি আরবের খ্যাতনামা সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করছে তুরস্ক। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তুর্কি কর্মকর্তারা বলছেন খাশোগি কনস্যুলেটে প্রবেশের দিনই সৌদি থেকে একটি বিশেষ টিম ইস্তাম্বুলে পৌঁছায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বিশেষ টিম সৌদি সরকারের সমালোচক সাংবাদিককে হত্যার উদ্দেশ্যই পাঠানো হয়েছিল।

গত ২ অক্টোবর খাশোগি নিখোঁজ হওয়ার পর তদন্তের সাথে জড়িত একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসেকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তের পর তাদের কাছে মনে হয়েছে কনস্যুলেটের ভেতরেই সৌদি সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে।

হত্যার পর মরদেহ কনস্যুলেট থেকে সরিয়ে ফেলা হয় বলেও তদন্তকারীদের ধারণা।

এদিকে আল জাজিরার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, জামাল খাশোগি (৫৯) যেদিন নিখোঁজ হন, সেদিনই সৌদি আরব থেকে দেশটির ১৫ জন কর্মকর্তা তুরস্কে পৌঁছান।

আল জাজিরার ইস্তাম্বুল প্রতিনিধি জামাল এলশায়াল সূত্রের বরাত দিয়ে জানান, সৌদি কর্মকর্তারা মঙ্গলবার (২ অক্টোবর) আলাদা দুইটি ফ্লাইটে ইস্তাম্বুল পৌঁছান।

আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ১৫ সৌদি কর্মকর্তার সবাই এরই মধ্যে তুরস্ক ত্যাগ করেছেন।

বিবিসির ইস্তাম্বুল প্রতিনিধি মার্ক লোয়েন বলেছেন, খাশোগি যদি খুন হয়ে থাকেন তাহলে তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যকার সম্পর্ক এর নেতিবাচক প্রভাব নজিরবিহীন হতে পারে। নানা ইস্যুতে দেশ দুটি ইতোমধ্যে নিজেদের মধ্যে শীতলযুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। তুরস্কের মাটিতে একজন আশ্রয়প্রার্থীকে সৌদি সরকার কর্তৃক হত্যাকে তুর্কি কর্তৃপক্ষ সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে নেবে।

সৌদি আরবের এ রাজনৈতিক ভাষ্যকার বর্তমান যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচক ছিলেন এবং তিনি মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে লিখতেন। ওই কলামে তিনি নিয়মিতভাবে কাতার অবরোধ, ইয়েমন যুদ্ধসহ সৌদি আরবের বর্তমান বিদেশনীতির সমালোচনা করতেন।

২ অক্টোবর দুপুর ১টার দিকে ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করেন জামাল খাশোগি। আগামী মাসে তুর্কি বংশোদ্ভূত হবু স্ত্রীকে বিয়ে করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের জন্য তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তার হবু স্ত্রী খাদিজাও সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু তাকে খাশোগির সঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

খাশোগিকেও মোবাইল ফোন রেখে ভেতরে যেতে হয়েছে। অনেক দূতাবাস ও কনস্যুলেটে মোবাইল ফোন রেখে যাওয়ার রীতি অনুসরণ করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পরও খাশোগি সেখান থেকে বের না হওয়ায় তার বাগদত্তা তুর্কি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।









Leave a reply