নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলো ICAN

|

পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে ভূমিকার জন্য এবার শান্তিতে নোবেল পেলো ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবোলিশ নিউক্লিয়ার উয়েপন্স’। সংক্ষেপে যে জোট পরিচিত ‘আই-ক্যান’ নামে। আজ শুক্রবার নরওয়েজিয়ান কমিটির ঘোষণায় বলা হয়, পরমাণু বোমার ভয়াবহ প্রভাবের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে আইক্যান। নোবেল কমিটির আশা, পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার লড়াই গতি পাবে এ পুরস্কারের মাধ্যমে।

উত্তর কোরিয়ার একের পর এক পরমাণু পরীক্ষা নিয়ে উত্তেজনা চলছে সারা বিশ্বেই। যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি-ধমকিতে পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কাও করছেন অনেকে। ফিরে আসছে, হিরোশিমা-নাগাসাকির ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের স্মৃতি।

এমন বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শান্তির পুরস্কারের জন্য পরমাণু অস্ত্রবিরোধী আন্দোলনকেই বেছে নিলো নোবেল কমিটি। পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধের চেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার পাচ্ছে বেসরকারি সংস্থার জোট ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবোলিশ নিউক্লিয়ার উয়েপন্স। সংক্ষেপে যারা পরিচিত ‘আই-ক্যান’ নামে।

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি চেয়ারম্যান বেরিট রেইজ-অ্যান্ডারসন বলেন, ”বিশ্বে এখন পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি আগের চেয়ে বেশি। কিছু দেশ তাদের পরমাণু অস্ত্রের ভাণ্ডার আধুনিক করছে। আর উত্তর কোরিয়ার মতো কিছু দেশ এ অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। এর আগে আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে স্থল মাইন, ক্লাস্টার বোমা, রাসায়নিক ও জীবাণু বোমা নিষিদ্ধ করা গেছে। পরমাণু বোমা অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক হলেও এক্ষেত্রে শূণ্যতা ছিল। সেটা পূরণ করেছে আইক্যান।”

গত জুলাই মাসে আইক্যানের উদ্যোগে পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধের চুক্তি করে ১২২টি দেশ। কোনো পরমাণু শক্তিধর দেশের সম্মতি নেই বলে এ চুক্তির সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন আছে অনেকের। তবে নোবেল কমিটি মনে করছে, শান্তির পুরস্কার গতি আনবে পরমাণু অস্ত্রবিরোধী আন্দোলনে।

বেরিট রেইজ-অ্যান্ডারসন আরও বলেন, “আমরা জানি, এ চুক্তির মাধ্যমে কোনো পরমাণু অস্ত্র ধ্বংস করা যাবে না। কিন্তু আমরা বার্তা দিতে চেয়েছি যে, পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়তে পরমাণু শক্তিধর দেশগুলোকেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে। এ বছরের শান্তির পুরস্কারকে তাই এসব দেশকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান হিসেবেও বিবেচনা করতে পারেন।”

২০০৭ সালে অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হয় আইক্যানের পথচলা। মাত্র ১০ বছরের মাথায় নোবেল প্রাপ্তিতে কিছুটা অবাক এর কর্মীরা। বিষয়টিকে পরমাণু অস্ত্রবিরোধী আন্দোলনের সাফল্য হিসেবে দেখছে তারা।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক বিট্রিস ফিন বলেন, “খবরটি শুনে প্রথমে ভেবেছিলাম কেউ মজা করছে। সত্যিই নোবেল পেয়েছি, বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের জন্য ১৯৪৫ সাল থেকে যারা অক্লান্তভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের সবার জন্য এটা খুশির খবর। আর পরমাণু পরীক্ষার ভুক্তভোগীদের জন্য এটা বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি।”

প্রতি বছর ৬ ক্যাটাগরিতে নোবেল দেয়া হলেও আলোচনা-সমালোচনা বেশি হয় নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়েই। এ বছর ৩১৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মনোনয়ন পেয়েছিলো সবচেয়ে অভিজাত এ পুরস্কারের জন্য।









Leave a reply