পশ্চিমবঙ্গের পানির নিচের মেট্রোরেলের আদ্যোপান্ত

|

পশ্চিমবঙ্গের পানির নিচের মেট্রোরেল

পশ্চিমবঙ্গের পানির নিচের মেট্রোরেল

সুকান্ত চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা:

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার ধর্মতলার এসপ্ল্যানেড থেকে হাওড়া ময়দান পর্যন্ত গঙ্গা নদীর তলদেশে পাতাল মেট্রোরেলের উদ্বোধন করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার (৬ মার্চ) উদ্বোধন শেষে স্কুল পড়ুয়া শিশু-কিশোরদের নিয়ে মেট্রো ট্রেনে চড়ে নির্দিষ্ট সেই পথ অতিক্রমও করেন তিনি। এটিই ভারতের এই প্রথম পানির নিচ দিয়ে তৈরি করা রেল করিডোর।

৪.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ হাওড়া ময়দান এবং এসপ্ল্যানেড অংশের ৫২০ মিটার লাইন গিয়েছে নদীটির তলদেশ নিয়ে। এটি পার হতে সময় লাগবে মাত্র ৪৬ সেকেন্ড। প্রযুক্তিগত দিক দিয়েও এটি বেশ এগিয়ে। ট্রেনটি যে মুহূর্তে টানেলে প্রবেশ করবে সেই মুহূর্তেই একটি নীল আলো জ্বলে উঠবে। নীল এলইডি আলো দেখে বোঝা যাবে সেই মূহুর্তে ট্রেনটি পানির নিচ দিয়ে ছুটছে। টানেলটি পানির তলদেশ থেকে ৩৩ মিটার নিচ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে যেখানে রয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অপটিক্যাল ফাইবার। এতে ফাইভ জি গতির ইন্টারনেট সুবিধাও পাবেন যাত্রীরা।

মেট্রোর এই যাত্রাপথে ধর্মতলার এসপ্ল্যানেড থেকে হাওড়া ময়দান যেতে মাঝে স্টেপেজ পড়বে হাওড়া মেট্রো, তারপর হওড়া ময়দান। এরপর যাত্রীরা কোথাও যেতে চাইলে মেট্রো বদল করতে হবে। তবে গোটা সফরে যাত্রীদের একবার টিকিট কাটলেই হবে। হাওড়া থেকে দক্ষিণেশ্বর, বরানগর এবং নোয়াপাড়া যেতে ভাড়া গুনতে হবে ৩০ রুপি। হাওড়া ময়দান থেকে দমদম, বেলগাছিয়া এবং শ্যামবাজার পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে ২৫ রুপি। অপরদিকে শোভা বাজার-সুতানুটি, গিরিশ পার্ক এবং মহাত্মা গান্ধী রোড পর্যন্ত ভাড়া ২০ রুপি। হাওড়া ময়দান থেকে সেন্ট্রাল, চাঁদনি চক, পার্কস্ট্রিট এবং ময়দানের ভাড়া নির্ধারণ হয়েছে ১৫ রুপি। কলকাতার পার্শ্ববর্তী জেলা হাওড়া ময়দান থেকে রবীন্দ্রসদন, নেতাজি ভবন এবং যতীন দাস পার্ক পর্যন্ত মেট্রো ভাড়া পড়বে ২০ রুপি। হাওড়া ময়দান থেকে কালীঘাট, রবীন্দ্র সরোবর, মহানায়ক উত্তর কুমার (টালিগঞ্জ) এবং নেতাজি (কুঁদঘাট) পর্যন্ত মেট্রো ভাড়া ২৫ রুপি এবং সর্বশেষ রুট হাওড়া ময়দান থেকে মাস্টারদা সূর্য সেন (বাঁশদ্রোণী), গীতাঞ্জলি (নাকতলা), কবি নজরুল (গড়িয়া বাজার), শহিদ ক্ষুদিরাম (ব্রিজি) এবং কবি সুভাষ (নিউ গড়িয়া) স্টেশন পর্যন্ত যাত্রীদের জন্য ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে ৩০ রুপি।

এদিকে গঙ্গা নদীর তলদেশ দিয়ে যাওয়া মেট্রো রেলের এই সুড়ঙ্গপথ ভারতের যুগান্তকারী উন্নয়নের স্মারক হতে চলেছে। এছাড়াও এদিন আরও বেশকিছু প্রকল্পের সূচনা এবং উদ্বোধন করেন নরেন্দ্র মোদি।

উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালের ২৪ অক্টোবর কলকাতা শহরে প্রথম মেট্রো চলাচল শুরু হয়। প্রথমে ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার এই রেলপথ চালু হওয়ার পর পরবর্তী সময় এই মেট্রো ট্রেনের চলার পথ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ কিলোমিটারে।

এমএইচআর/এটিএম


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply