ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নয়, দ্রুত দেশে ফিরতে চান সালাহউদ্দিন

|

ভারতের আদালতে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ বেকসুর খালাস পাওয়ার পর স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন করবেন না তিনি, বরং দ্রুত দেশে ফিরতে চান।

অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আজ শুক্রবার বেকসুর খালাস পান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

শুক্রবার মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক এ রায় দেন।

২০১৫ সালের ১১ মে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে সিটি থানায় সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করে শিলংয়ের পুলিশ। প্রায় সাড়ে তিন বছর বিচার চলার পর চলতি বছরের ১৩ আগস্ট এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। এরপর অবশ্য চারবার মামলার রায় ঘোষণার তারিখ পেছায়। অবশেষে শুক্রবার এই রায় এলো।

সালাহউদ্দিন আহমেদের আইনজীবী হিসেবে ছিলেন এপি মহন্ত। তিনি অনুপ্রবেশের মামলায় এত দীর্ঘ সময় বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আগেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশ থেকে প্রায় দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর ২০১৫ সালের ১১ মে ভারতের শিলং শহরে ‘রহস্যজনকভাবে’ হাজির হন সালাহউদ্দিন আহমেদ।

রায় ঘোষণার পর সালাহউদ্দিনের সাক্ষাকার নেয় আসাম ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘নর্থইস্ট নাউ’। পত্রিকাটিকে বিএনপি নেতা বলেন, আমি ইচ্ছা করে ভারতের অনুপ্রবেশ করিনি। আমাকে চোখ বেঁধে এখানে নিয়ে আসা হয়। আমার বন্ধুর বাসা থেকে আমাকে উঠিয়ে নেয় সরকারি বাহিনী।

বাংলাদেশে গেলে কোনো নিপীড়নের শঙ্কা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, অবশ্যই আছে। কারণ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দায়ের করা আছে।

ভারতীয় পত্রিকাটির সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, তার জীবনের কোনো শঙ্কা আছে কিনা? উত্তরে বিএনপি নেতা বলেন, গণতন্ত্র না থাকায় এটা ওখানে আমাদের জীবনেরই অংশ। ক্ষমতাসীনরা আমাদের বিরুদ্ধে ভুয়া অভিযোগে অনেক মামলা করেছে। এমনকি মৃত ব্যক্তির নামেও মামলা হয়েছে। ফলে এইগুলো আমাদেরকে মোকাবেলা করতেই হবে।

ভারত সরকার এবং আদালতকে ধন্যবাদ জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ভারতের রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন করবো না। দ্রুত দেশে ফিরতে চাই।

সময় মতো দেশে ফিরতে পারলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহনেরও ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে আদালত রায়ে দেশটির সরকারকে বলেছে, তাকে দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।









Leave a reply