আশ্রয়প্রার্থীদের উপর গুলি চালানোর হুমকি দিয়ে তোপের মুখে ট্রাম্প

|

আশ্রয়প্রার্থীদের ঢল ঠেকাতে, গুলি চালানোর হুমকি দিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে অবস্থান বদলে বলেছেন, গুলি নয়, দীর্ঘমেয়াদে কারাবন্দি রাখা হবে অনুপ্রবেশকারীদের। মেক্সিকো সীমান্তে অভিবাসীদের ঠেকাতে, আরও ১৫ হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনাও করছে ওয়াশিংটন। জাতিসংঘ বলছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত লাভবান করবে মানব পাচারকারীদের।

ভিটেমাটি ছেড়ে মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিচ্ছে মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশের হতদরিদ্র মানুষ। গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র সীমান্ত। ভাগ্যবদলের আশায় অবিরাম হেঁটে চলা এই দলে বেশিরভাগই মেক্সিকো, হন্ডুরাস, গুয়াতেমালা, নিকারাগুয়া, এল-সালভাদরের নাগরিক। একটু স্বচ্ছলতার মুখ দেখতে মার্কিন প্রশাসনের চোখরাঙানি আর মৃত্যুঝুঁকি উপেক্ষা করেই বিপদসংকুল পথে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চেষ্টা তাদের।

আশ্রয়প্রার্থীদের এ দলকে ঠেকাতে, আবারও কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার তিনি হুমকি দেন, প্রয়োজনে গুলি ছুঁড়তে পিছু হটবে না সীমান্তরক্ষীরা। অবশ্য, তুমুল সমালোচনার মুখে, পরে সুর কিছুটা নরম করেন তিনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমাদের সেনাদের দিকে যদি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা পাথর ছোঁড়ে, তাহলে শাস্তি তো তাদের পেতেই হবে। তবে তাদের গুলি করার জন্য সীমান্তরক্ষীদের কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। জোর করে কেউ অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের গ্রেফতার করা হবে। দীর্ঘদিন কারাগারে আটকে রাখা হবে তাদের।

মেক্সিকো সীমান্তে অভিবাসীদের ঠেকাতে এরই মধ্যে, পাঁচ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রয়োজনে আরও ১৫ হাজার সেনা পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে পেন্টাগন। সমালোচকরা বলছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে, কট্টরপন্থিদের সমর্থন আদায়েই, অভিবাসীদের ওপর কঠোর হওয়ার কৌশল নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এদিকে, গেল কয়েক বছরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রাণহানির নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এপি। সংস্থাটির হিসেবে, ২০১৪ সাল থেকে নিহত বা নিখোঁজ প্রায় ৫৭ হাজার মানুষ।









Leave a reply