এটা একটা রাজনীতির খেলা: ব্রি. জে. সাখাওয়াত হোসেন

|

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জেনারেল ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, একদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সংলাপ করছে, অন্যদিকে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এটা একটা রাজনীতির খেলা। এই আলোচনা আরও কিছুদিন দীর্ঘায়িত হবে হয়তো। এখনো অনেক বিষয় আছে যেগুলো নিষ্পত্তি হয়নি। এগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দল গুলোই দেখবেন কি করা যায়।

তফসিলের কথায় তিনি বলেন, দশম জাতীয় সংসদ থাকবে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। যদি ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হয় তাহলে নির্বাচন হয়ে যাওয়ার কথা ২০, ২২ বা ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে। তফসিল ঘোষণার এখতিয়ার একমাত্র নির্বাচন কমিশনারের। আমি লক্ষ্য করছি আমরা যদি স্বাধীন নির্বাচনের কথা বলি, তখন এটার জন্য একটা সরকারি বিষয় হয়ে গেছে। যারা সংলাপে যাচ্ছে তারা বলছে তফসিল পেছাতে হবে আবার সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে তফসিল পেছানো যাবে না। আসলে তো এটা নির্বাচন কমিশনারের ব্যাপার।

আজ সন্ধ্যা ৬টায় যমুনা টেলিভিশনে প্রচারিত টকশো ‘রাজনীতি’তে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। টকশো সঞ্চালনা করেন রোকসানা আনজুমান নিকোল। আজকের আলোচনার বিষয় ছিলো ‘কী পেলাম সংলাপে?’

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন করতে হবে ২৮ জানুয়ারির আগে। একমাস হাতে রেখে যদি নির্বাচন করা হয় সেক্ষেত্রে আমি কিছু জটিলতা দেখছি। এই প্রথম বাংলাদেশে এধরনের একটা নির্বাচন হচ্ছে। একমাস নতুন নির্বাচিত পার্লামেন্ট মেম্বাররা থাকেবন যারা শপথ নিতে পারবেন না। আর একমাস আগের সংসদ সদস্যরা থাকবেন যারা শপথে থাকবেন। সেখানে অনেকেই হয়তো মনোনয়ন পাননি। তারা সংসদ সদস্য হিসেবে থাকবেন। এই জায়গাটাই কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ জটিলতা হয় কি না সেটা আমরা জানি না। কাজেই তফসিল আগানো বা পেছানো এটা সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের কাজ। আমি দেখছি নির্বাচন কমিশন এব্যাপারে কোনো কথা বলছে না কিন্তু সরকারি তরফ থেকে যেনো সিদ্ধান্ত গুলো আসছে। এতে যেটা হয়, নির্বাচন কমিশনের যে দায়িত্ব সেটাকে এড়িয়ে যাওয়া হয়। কাজেই আমার মনে হয় যারা দাবি করছেন তফসিল পেছানোর তারা নির্বাচন কমিশনকে বলেন। সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিবে তফসিল পেছাবে কি না?

তবে আমি মনে করি তফসিল পেছানোটা বড় কিছু নয়। কারণ অনেকটা সময় এখনো আছে। আমি মনে করি ১৫ জানুয়ারির পরও আরও ১০ বা ১৩ দিন সময় থাকবে। এখন সেটা সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার।

জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা আলোচনায় নত হয়েছেন এটা আমরা কখনও দেখিনি। এটা একেবারেই বিরল দৃষ্টান্ত। ঐক্যফ্রন্ট এবং আওয়ামী লীগের যে আলোচনা এই পুরো বিষয়টা একটা দৃষ্টি ভঙ্গির ব্যাপার। এখানে এই দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য যতো কমিয়ে আনতে পারবে তত পরিমানে একটা বুঝাপড়া দাড়িয়ে যাবে। আর তার উপর ভিত্তি করেই অনেক অসাধ্য সাধন করা সম্ভব।

ডিবিসি টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক মঞ্জুরুর ইসলাম বলেন, আমি মনে করি এই সংলাপ ১ নভেম্বর বসার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সংকট সমাধানের অনেকটাই এগিয়ে গেছি। দ্বিতীয় দফায় আলোচনায় গিয়ে শেষমেশ দাবি ৩ জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে। প্রথম খালেদা জিয়া ও সকল রাজবন্দির মুক্তি, দ্বিতীয় হচ্ছে সংসদ ভেঙ্গে দেয়া আর তৃতীয় হচ্ছে, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে। আমাদের আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে দু’টি দলে সংলাপের মধ্য দিয়ে একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আরেকটি হচ্ছে আস্থার সম্পর্ক তৈরি করা যে সকল রাজনৈতিক দল সমান ভাবে অংশগ্রহণ করে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য প্রার্থীরা প্রচারণা করতে পারবেন এবং জনগন ভোট দিতে পারবে ফলাফলটি সঠিকভাবে সুষ্ঠুভাবে গণনা করতে পারবে। এই জায়গায় আমার ধারণা আমরা একধরনের আশ্বাস পাচ্ছি।









Leave a reply