দ্বিতীয় দিনশেষে চালকের আসনে বাংলাদেশ

|

২৯ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সাকিব-মিরাজের স্পিন ভেলকিতে কুপোকাত হয়ে যেভাবে সফরকারী ব্যাটসম্যানরা যাওয়া-আসার মিছিলে যোগ দিচ্ছিলেন, তাতে ৬০ থেকে ৭০-এর ঘরেই তাদের গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। ৫ উইকেটেই ৭৫ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে তারা। বাংলাদেশের হয়ে মিরাজ ৩টি ও সাকিব নিয়েছেন ২ উইকেট।

কৃতিত্ব পাবেন প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যান শিমরন হেটমায়ার ও শান ডাওরিচ। দারুণ দক্ষতায় মহাবিপর্যয় সামলেছেন তারা। মাঝে মধ্যে আগ্রাসীও হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে এ দুই ব্যাটার না দাঁড়ালে হয়তো শঙ্কায় সত্যি হতো। হেটমায়ার ৩২ ও ডাওরিচ ১৭ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন।বেশ মেলবন্ধন গড়ে উঠেছে তাদের মধ্যে। ইতিমধ্যে ৪৬ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তুলেছেন তারা।

টাইগারদের চেয়ে এখনও ৪৩৩ রানে পিছিয়ে ক্যারিবীয়রা। শুধু ফলোঅন এড়াতেই লাগবে আরও ২৩৩ রান। ফলে প্রথম শঙ্কা এড়ালেও দ্বিতীয়টির সম্ভাবনা থাকছেই। এখন দলকে কতদূর তারা টানতে পারেন-তাই দেখার।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ৫০৮ রানের জবাবে খেলতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সাকিব-মিরাজের ঘূর্ণিতে খাবি খায় অতিথিরা। প্রথম ওভারেই সাকিবের শিকার হয়ে ফেরেন ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট। প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগে ফেরেন কাইরন পাওয়েল। তার শিকারী মেহেদী হাসান মিরাজ। পরক্ষণেই সাকিবের দ্বিতীয় বলি হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন সুনিল আমব্রিস। এতে চাপে পড়ে ক্যারিবীয়রা।

সেই চাপের মধ্যে আঘাত হানেন মিরাজ। রোস্টন চেজকে সোজা প্যাভিলিয়নের পথ ধরান তিনি। সেই রেস না কাটতেই প্রতিপক্ষ শিবিরে ফের আঘাত হানেন এ অফস্পিনার। পাঁচ ব্যাটসম্যানের একমাত্র হিসেবে দুই অংকের কোটা পেরুনো শাই হোপকে ফিরিয়ে দেন এ তরুণ। এতে মহাবিপর্যয়ে পড়ে উইন্ডিজ।

সবচেয়ে মজার বিষয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৫ ব্যাটসম্যানই ফিরেছেন বোল্ড হয়ে। বিশ্ব ক্রিকেটে এ ঘটনা ঘটল দ্বিতীয়বার। বাংলাদেশ ঘটালো প্রথমবার।

এর আগে সবক’টি উইকেট খুইয়ে ৫০৮ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। টেস্টে ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, ১৩৬। এর আগে ক্রিকেটের আদি ফরম্যাটে তার সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ছিল ১১৫। ২০১০ সালে হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এ রান করেন তিনি।

স্বাগতিকদের রানের পাহাড় গড়ার পথে বড় অবদান আছে সাদমান ইসলামের ৭৬, সাকিব আল হাসানের ৮০ ও লিটন দাসের দুর্দান্ত ৫৪ রানের ইনিংসের। ক্যারিবীয়দের হয়ে কেমার রোচ, দেবেন্দ্র বিশু, জোমেল ওয়ারিক্যান ও ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট-প্রত্যেকে নেন ২টি করে উইকেট।









Leave a reply