৫ দফা বাস্তবায়নে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

|

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে তার উত্থাপিত পাঁচ দফা প্রস্তাব বাস্তবায়নের মধ্যেই চলামান রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান দেখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি, যুদ্ধ নয় বরং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। আজ সোমবার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন,’আমরা যুদ্ধ চাই না। আমরা বিশ্বাস করি,আলোচনার মাধ্যমে সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব।’

অগাস্টের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান শুরুর পর নতুন করে পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। গত কয়েক যুগ ধরে জাতিগত নিপীড়নের শিকার হয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গার ভার বহন করে আসছে বাংলাদেশ। এ দফা মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর বর্বরতা ছাড়িয়ে গেছে আগের সব ঘটনাকে। জাতিসংঘ একে চিহ্নিত করেছে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা রোহিঙ্গাদের মানবিক সংকটে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দাবি তুলেছে নিরাপত্তা দিয়ে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার।

এ প্রেক্ষিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া বক্তৃতায় রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। দফা সমূহ হলো:

১. অবিলম্বে এবং চিরতরে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সহিংসতা ও ‘জাতিগত নিধন’ বন্ধ করা
২. জাতিসংঘ মহাসচিবের নিজস্ব একটি অনুসন্ধানী দলকে মিয়ানমারে পাঠানো
৩. জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল নাগরিককে নিরাপত্তা দিতে মিয়ানমারের ভেতরে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ‘সুরক্ষা বলয়’ গড়ে তোলা
৪. রাখাইন রাজ্য থেকে জোর করে বিতাড়িত সব রোহিঙ্গা যাতে মিয়ানমারে তাদের বাড়িতে ফিরতে পারে, তা নিশ্চিত করা
৫. দ্রুততম সময়ে শর্তহীনভাবে কফি আনান কমিশনের সুপারিশমালার পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

সোমবার, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের সদস্যভুক্ত ৩১টি ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাংলাদেশে যেমন অত্যাচার করেছিল, মিয়ানমারের এই বাস্তুচ্যুত নাগরিকরাও তাদের দেশে সেরকম অত্যাচারের শিকার। সে সময় তিন কোটি বাঙালি গৃহহারা হয়েছিল, আর শরণার্থী হয়েছিল এক কোটি।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তখনকার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন,’রোহিঙ্গাদের কষ্টটা আমরা বুঝি, আমাদের ৬ বছরের শরণার্থীর জীবন কাটাতে হয়েছে।’

মিয়ানমার থেকে আসা মানুষের দুর্দশায় তাদের পাশে না দাঁড়ালে সেটা অমানবিক হবে বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী। এসময়,বাংলাদেশের মানুষের মানবিক গুণের তারিফ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, প্রত্যন্ত এলাকা থেকে সাহায্য নিয়ে তারা রোহিঙ্গাদের পাশে দাড়িয়েছে।”

যমুনা অনলাইন: টিএফ









Leave a reply