বিপিএলে যে কারণে সফল বিদেশি ব্যাটসম্যানরা

|

সৈয়দ আবিদ হুসেইন সামি:

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট; চার-ছয়ের ধুন্দুমার ব্যাটিং যার সমার্থক শব্দ । কিন্তু এই জায়গাটা থেকে বঞ্চিত এবারের বিপিএল এর মিরপুর পর্ব । এখানকার কন্ডিশনকে কোনভাবেই বলা যাবে না আদর্শ টি-টোয়েন্ট ব্যাটিং কন্ডিশন । হাজরাতুল্লাহ জাজাই বা ক্রিস গেইলের মত যেসব ব্যাটসম্যানরা মাসল পাওয়ার ব্যাবহার করে ব্যাটিং করেন তারা হয়তোবা এই কন্ডিশনে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সফল হবেন বা হচ্ছেন , কিন্তু যারা মডারেট টাইমিং বেইজড ব্যাটিং করেন তাদের জন্য কন্ডিশনটা একটু প্রতিকূলই বটে । তবে, এসব ক্ষেত্রে যা ব্যাবহার করতে হয় তা হচ্ছে প্রেজেন্স অফ মাইন্ড। এই কন্ডিশনে টাইমিং বেইজড ক্রিকেটারদের সব থেকে বড় অস্ত্র হয় তাদের মানসিকতা । এই জায়গাতেই এগিয়ে রয়েছেন বিদেশি ব্যাটসম্যানরা ।

এই ধরনের কন্ডিশনে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সময় হচ্ছে মাঝখানের ওভারগুলো। বোলিং টিম এই সময়টাতে স্লো মিডিয়াম পেসার বা স্পিনারদের ব্যবহার করছে , যাতে ব্যাটসম্যানরা বলের পেইসকে কাজে লাগিয়ে বাউন্ডারি মারতে না পারে কিংবা গায়ের জোরে মারতে গেলে বাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়ে। এই সময়টাতে যে কাজটা করতে হয় তা হল সিংগেলস এবং ডাবলসের উপর ভর করে রানের চাকাটাকে সচল রাখা। এই বিপিএল-এ ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রেই এ কাজটা করছেন বিদেশি ব্যাটসম্যানরা ।

চিটাগাং ভাইকিংসের সাথে ম্যাচে সিলেট সিক্সার্সের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারের ইনিংসটিই দেখুন। ৪৭ বলে ৫৯ এর ইনিংসে মাত্র ১৪ রান নিয়েছেন বাউন্ডারিতে, যার অর্থ দাঁড়ায় ৪৫ রান নিয়েছেন দৌড়ে । এই ৪৫ এর মধ্যে “২” নিয়েছেন ১১ টি । অন্যদিকে ওয়ার্নার- নিকোলাস পুরানের ৭০ রানের পার্টনারশিপে মাত্র ২৬ রান এসেছে বাউন্ডারি থেকে, যার অর্থ এই দুই ব্যাটসম্যান দৌঁড়ে নিয়েছেন ৪৪ রান যেখানে ২ রান নিয়েছেন মোট ৮ বার ।

এমন কন্ডিশনে রান করাটা কঠিন কিন্তু অসম্ভব না । এখানে ক্যালকুলেশন করে কষ্ট করে রান করতে হয়। একজন পরিপূর্ণ ব্যাটসম্যানের বৈশিষ্ট এটাই যে তিনি কন্ডিশনের সংগে মানিয়ে নিয়ে ব্যাটিং করবেন। ওয়ার্নারের আগেও রবি বোপারা এভাবে খেলেই রান পাচ্ছেন। খুলনা টাইটানসের সঙ্গে জেতা ম্যাচে রাইলি রুশোকে নিয়ে করা পার্টনারশিপে ২৯ বলে ৪০ করেন বোপারা , যেখানে মাত্র ১৮ রান ছিল বাউন্ডারিতে। তার মানে, চার –ছয় না মেরেও টি টোয়েন্টিতে স্ট্রাইক রেট ১০০ এর উপর রাখা যায় যদি আপনি বেসিক ক্রিকেট ঠিক রাখেন।

যে কাজটা রবি বোপারা বা ডেভিড ওয়ার্নাররা করে দেখিয়েছেন সেই কাজটা আমাদের প্রেক্ষাপটে আমরা প্রত্যাশা করি নাজমুল শান্ত , মোসাদ্দেক সৈকত, নাসির বা সাব্বিরের কাছ থেকে। কন্ডিশন অনুযায়ী খেলার ধরন বদলিয়ে বেসিক ক্রিকেটটাকে ঠিক রাখাটাই আগামী ম্যাচগুলোতে হবে এই ক্রিকেটারদের জন্য করণীয়- টিম ম্যানেজমেন্ট হয়তো খেলোয়াড়দের সাথে এই ব্যাপারগুলো নিয়ে কথা বলবেন । কিন্তু সামগ্রিকভাবে, মিরপুরে এমন পিচ কন্ডিশনে বিপিএল এর মত ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট এর শুরুর ম্যাচগুলো খেলিয়ে টুর্নামেন্টের আকর্ষণ কমানোর দায় কি এড়াতে পারবে বিসিবি?









Leave a reply