কতটা কার্যকর হবে একাদশ সংসদ?

|

আলমগীর স্বপন:

সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আওয়ামী লীগের। আর নির্বাচনে মহাজোটের শরীক হয়েও ২২ আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলে জাতীয় পার্টি। অন্যদিকে নির্বাচিত হয়েও বিরোধী জোট ঐক্যফ্রন্ট যেতে চায় না সংসদে। এ অবস্থায় কতটা কার্যকর হবে একাদশ সংসদ? এমন প্রশ্নের মাঝেই ৩০ জানুয়ারি বসছে প্রথম অধিবেশন। প্রথমদিনেই নির্বাচিত হবেন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টিও চাইছে ডেপুটি স্পিকার পদ।

দশম জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৮ জানুয়ারি। ৩০ জানুয়ারি বসছে একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন। প্রথম বারের নির্বাচিত হয়ে সংসদে যোগ দিবেন বেশ কিছু সদস্য। পুরোনোদের সাথে থেকে সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে চান তারা, যমুনা নিউজের সাথে আলাপকালে এমনটাই জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ২৫৭ আসন। দ্বিতীয় সর্ব্বোচ ২২ আসন জাতীয় পার্টির। বিরোধী জোট ঐক্যফ্রন্ট ৮টি আসন পেলেও তাদের সিদ্ধান্ত, সংসদে যোগ না দেয়ার। তাই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার সংখ্যাগরিষ্ঠ আওয়ামী লীগ থেকেই হচ্ছে- এটা অনেকটা চূড়ান্ত। যদিও প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির দাবি আছে ডেপুটি স্পিকারের পদ নিয়ে।

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া বলেন, রীতি অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের একটি সভা হবে। সেখানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের মনোনয়ন হবে। পরে সংসদ অধিবেশন শুরু হলে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে মনোনয়ন করতে হবে।

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ডেপুটি স্পিকারের একটা পদ সাংবিধানিকভাবে আমাদের পাওয়ার কথা। আলোচনা সাপেক্ষে আমরা সেটি নেওয়ার চেষ্টা করবো।

দশম সংসদের মতো এবারও জাতীয় পার্টির বেশিরভাগ সদস্য একইসাথে সরকার ও বিরোধী দলে থাকতে চেয়েছিল। নানা টানাপোড়েনের পর শেষ পর্যন্ত প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় দলটি।

দলটির মহাসচিব ও সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, আগেরবার কিছুটা ভেজাল ছিল। এবার আমরা নির্ভেজাল বিরোধী দল। বিরোধীদলকে সবসময় ছায়া সরকার বলা হয়। আমরা চেষ্টা করবো সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে।

তবে সংখ্যায় খুব কম,মাত্র ৮ জন হলেও ঐক্যফ্রন্ট যোগ দিলে সংসদ হতে পারে আরো কার্যকর ও প্রাণবন্ত।

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচন সম্পর্কিত তাদের যে সমালোচনা তার সাথে সংসদে যোগ দেয়ার কোনো সংঘর্ষ নেই। অনেক সময় বিরোধী দলের ১জন সদস্যও সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া বলেন, আমি আশা করবো ঐক্যফ্রন্টের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা সংসদে যোগ দিয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সংসদ সদস্যদের গেজেট এরইমধ্যে প্রকাশ হয়েছে। এর ৯০ দিন পর্যন্ত শপথ নেয়ার সুযোগ থাকছে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিতদের।

যমুনা অনলাইন: এএস/টিএফ









Leave a reply