৫ম বারের মতো গাইবান্ধায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা

|

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

দিনদিন হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতা। হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ এই ঘোড়দৌড় খেলার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ৫ম বারের মতো গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা।

আজ শুক্রবার বিকেলে ৫ম বারের মতো পলাশবাড়ীর মহদিপুর ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামের আমন ধানের ফাকা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আবুল কালাম আজাদের আয়োজনে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলো ছোট-বড় মিলে ২৪টি ঘোড়া। স্থানীয়দের পাশাপাশি রংপুর ও দিনাজপুর জেলারসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসে প্রতিযোগিরা। বেশ কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে চলে ঘোড় দৌড়।

প্রতিযোগিতা ঘিরে সকাল থেকেই উৎসবের আমেজ ও সাজসাজরব গোটা এলাকা জুড়েই। আশপাশের গ্রাম ছাড়াও দুর-দুরান্ত থেকে আসা কয়েক হাজার নারী-পুরুষ এই প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। বাদ যায়নি শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধও।

বাবার সাথে খেলা দেখতে আসে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সুমনা খাতুন। সুমনা বলেন, জীবনে প্রথম ঘোড় দৌড়ে দেখে তার অনেক অনেক ভালো লাগছে। এমন খেলার বেশি বেশি আয়োজনের দাবি জানায় সুমনা।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া ঘোড়া মালিক মালেক মিয়া বলেন, বাদ-দাদার ঘোড়া ছিলো। গ্রামের বিভিন্ন ঘোড় দৌড়ে তারা অংশ নিয়েছিলেন। এসব প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বেশ ভালো লাগে। তবে ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে মনের খোরাক মিটলেও পেটের খিদে মেটেনা। তবে এমন আয়োজন বেশি ও ঘোড়া মালিকদের সহযোগিতা করার দাবি জানান তিনি।

আয়োজক মহদীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘গ্রাম বাংলায় দিনদিন আধুনিক প্রযুক্তির ছোয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে এসব গ্রামীণ খেলাধুলা। তবে খেলাটিকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও নিজ উদ্যোগেই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন।

প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইউনুস আলী সরকার বলেন, ‘এমন প্রতিযোগিতার উদ্যোগে তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। বিলুপ্তির হাত থেকে অবহমান গ্রাম বাংলার ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতাসহ ঐহিত্যবাহী খেলাগুলো ফিরে আসা উচিত। এজন্য এসব খেলাধুলা ঠিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ ও পৃষ্টপোষকতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি’।

তিনটি গ্রুপ ভিত্তিক এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয়স্থান অর্জন করেন ছয়জন। পরে বিজয়ীসহ অংশ নেয়া প্রতিযোগিদের হাতে পুরুষ্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।









Leave a reply