বিএনপিকে শপথ নিয়ে সংসদে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

|

বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে এখন আমাদের জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এসময় বিএনপিকে শপথ নিয়ে সংসদে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, এই ঐক্যের যোগসূত্র হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সাম্য ও ন্যায়বিচার এবং উন্নয়ন ও অগ্রগতি।

তিনি বলেন, বিজয়ের পর আমরা সরকার গঠন করেছি। সরকারের দৃষ্টিতে দল-মত নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিক সমান। আমরা সবার জন্য কাজ করব। সরকারি সেবা খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় জীবনের সর্বত্র আইনের শাসন সমুন্নত রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করব। জাতীয় সংসদ হবে সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দু।

বিএনপিকে সংসদে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাদশ সংসদে বিরোধী দলের সদস্য সংখ্যা নিতান্তই কম। তবে, সংখ্যা দিয়ে আমরা তাদের বিবেচনা করব না। সংখ্যা যত কমই হোক, সংসদে যে কোনো সদস্যের ন্যায্য ও যৌক্তিক প্রস্তাব/আলোচনা/সমালোচনার যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। আমি বিরোধীদলের নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নিয়ে সংসদে যোগদানের আহ্বান জানাচ্ছি।

এ সময় তিনি দুর্নীতি, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জানি, দুর্নীতি নিয়ে সমাজের সর্বস্তরে অস্বস্তি রয়েছে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের নিজেদের শোধরানোর আহ্বান জানাচ্ছি। আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্নীতি উচ্ছেদ করা হবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বড় ধরনের জয় প্রত্যাশিত ছিল মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১০ বছরের উন্নয়নে সাধারণ মানুষ সুফল পেয়েছে বলেই জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে। এ জন্যই একাদশ সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বড় ধরনের জয় প্রত্যাশিত।

ভাষণের শুরুতেই আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়ের জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। এছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব দল এবং নৌকার পক্ষে ও বিপক্ষের ভোটারদেরও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটকে বিপুলভাবে বিজয়ী করার জন্য আমি আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একইসঙ্গে আমি মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে শোকরিয়া আদায় করছি।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য আমি নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারা এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর সব সদস্যের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

এ সময় বিএনপির পরাজয়ের কারণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির এক আসনে ৩-৪ জন বা তারও বেশি প্রার্থী মনোনয়ন, মনোনয়ন নিয়ে ব্যাপক বাণিজ্যের অভিযোগ এবং দুর্বল প্রার্থী মনোনয়ন, নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন-সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। নিজেরা জনগণের জন্য কী করবে, সে কথা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করা ছাড়া নিজেদের সাফল্যগাথা তারা তুলে ধরতে পারেনি, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামাতের দেশব্যাপী অগ্নি-সন্ত্রাস ও ধ্বংসাত্বক কর্মকান্ড সাধারণ মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি।

তিনি বলেন, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতাদের মনোনয়ন তরুণ ভোটাররা মেনে নিতে পারেনি। তরুণরা আর যাই হোক স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির পক্ষ নিতে পারে না।









Leave a reply