বগুড়ায় আ’লীগ ৯, বিদ্রোহী ২ এবং ১ স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত

|

বগুড়া ব্যুরো:

বগুড়ার ১২ উপজেলার ৯টিতেই দল মনোনীত চেয়ারম্যান পেলো আওয়ামী লীগ। দুটিতে দলের প্রার্থীর বিপরীতে লড়ে জিতেছেন দু’জন আওয়ামী লীগ নেতা আর বাকি একটিতে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

সোমবার ভোটগ্রহণ শেষে রাতে উপজেলাগুলোর চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদের ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

ঘোষিত ফলাফলে বগুড়া সদর উপজেলায় ৩৭ হাজার ৪৯২ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের আবু সুফিয়ান সফিক। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মাফতুন খান রুবেল পেয়েছেন ১২ হাজার ২১৬ ভোট।

সারিয়াকান্দিতে আওয়ামী লীগের মুনজিল আলী সরকার ২১ হাজার ২১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা টিপু সুলতানকে হারিয়ে। টিপুর প্রাপ্তি ১১ হাজার ৭৬৭ ভোট।

ধুনটে আওয়ামী লীগের আবদুল হাই খোকন ৩১ হাজার ৯১৫ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা আলিমুদ্দিন হারুন মণ্ডল পেয়েছেন ১২ হাজার ৬১৪ ভোট।

নন্দীগ্রামে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জিতেছেন ৩১ হাজার ৩৫৭ ভোট পেয়ে। ২০ হাজার ৪৮০ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা আলেকজান্ডার।

সোনাতলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মীনহাদুজ্জামান লিটন ৪৮ হাজার ৯০৪ ভোট পেয়ে পরাজিত করেছেন তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা জিয়াউল হক লিপনকে। লিপনের প্রাপ্ত ভোট ৫ হাজার ১২১।

শাজাহানপুরে বিজয়ী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সোহরাব হোসেন ছান্নু। তিনি পেয়েছেন ৩৩১৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা আবুল বাশার পেয়েছেন ১৫ হাজার ৮৮৩।

গাবতলীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রফি নেওয়াজ খান রবিন ১ লাখ ৩৮ হাজার ২০৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিটকতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ডিসেন্ট আহমেদ সুমন পেয়েছেন ৩ হাজার ১০৫ ভোট।

কাহালুতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আল হাসিবুল হাসান সুরুজ ৩১ হাজার ৭৩২ ভোট পেয়ে পরাজিত করেছেন দল মনোনীত প্রার্থী আবদুল মান্নানকে। মান্নানের প্রাপ্ত ভোট ২০ হাজার ৭৮৯।

দুপচাঁচিয়াতেও জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফজলুল হক প্রামাণিক। তিনি পেয়েছেন ২৫ হাজার ৭৫ ভোট। আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী মিজানুর রহমান খান সেলিমের প্রাপ্তি ১৩ হাজার ৩৭১ ভোট।

শিবগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজিজুল হককে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজ আহম্মেদ রিজু। আজিজুল ২৭ হাজার ৪২৬ ভোট পেলেও রিজু পেয়েছেন ৬১ হাজার ২৪০ ভোট।

এর আগে বিনাভোটে আদমদীঘি উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম খান রাজু এবং শেরপুরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মজিবুর রহমান মজনু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

স্থানীয় নির্বাচন অফিস সূত্র জানিয়েছে, গত ডিসেম্বর বগুড়ার এই ১২ উপজেলায় ২৫ লাখ ৪৬ হাজার ২৮৭ ভোটারের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলেন ১৯ লাখ ২৬ হাজার ৪৮৪ জন। আর সোমবারের উপজেলা নির্বাচনে এই ভোটার এলাকাগুলোতে মোট ৬ লাখ ৭৫ হাজারের কিছু বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন। সংসদ নির্বাচনে জেলায় ভোটপ্রদানের হার ৭৫ শতাংশ থাকলেও এবার তা নেমে দাঁড়িয়েছে ২৭ শতাংশে।









Leave a reply