প্রধান তিন শহরেই এরদোগানের দলের পরাজয়!

|

তুরস্কের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারি ঘোষণার আগেই বিরোধীরা প্রধান তিনটি শহরে নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করেছে। ডেইলি সাবাহের দেয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, রাজধানী আঙ্কারার মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছেন বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপির) প্রার্থী মানসুর ইয়াভাস।

তিনি পেয়েছেন ৫০ দশমটিক ৬২ ভাগ। আর একেপির প্রার্থী মেহমেত ওজহাসেকি পেয়েছেন ৪৭ দশমিক ১০ ভাগ। ৯৯ দশমিক ৮২ শতাংশ ভোট গণনার পর দেখা যায়, সিএইচপির প্রার্থী পেয়েছেন ৫০ দশমিক ৯০ ভাগ ভোট। অর্থাৎ, সিএইচপি এখানে বিজয়ী।

গণনার অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট; যা দুই প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের বর্তমান ব্যবধানের চেয়ে কম। ফলে এখানে এরদোগানের একে পার্টির পরাজয় নিশ্চিত।

অন্যদিকে তুরস্কের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ শহর ইস্তাম্বুলে ৯৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট গণনার পর দেখা যায়, এরদোয়ানের মনোনিত প্রার্থী বিনালি ইলদ্রিম পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ৫১ ভাগ। এই শহরে সিএইচপি প্রার্থী একরেম ইমামগলু পেয়েছেন তার চেয়ে একটু বেশি ৪৮ দশমিক ৭৯ ভাগ। তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধান রয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, এই ব্যবধান ঘুচিয়ে ইলদিরিমের জয়ের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

এ ছাড়া তুরস্কের তৃতীয় বৃহত্তম শহর ইজমিরে সিএইচপি প্রার্থী তাঙ্ক সোয়ার পেয়েছেন ৫৮ দশমিক ০৬ ভাগ। আর এরদোয়ানের দলের প্রার্থী নিহাট জেবেকসি পেয়েছেন মাত্র ৩৮ দশমিক ৪৯ ভাগ। এখানে ইতোমধ্যেই পরাজয় ঘটেছে সরকারি দলের।

নির্বাচনে তুরস্কের ৫৭ মিলিয়ন ভোটার ভোট দেন এবং তাদের ভোটে ৩০টি প্রধান শহর, ৫১ টি প্রাদেশিক রাজধানী ও ৯২২টি জেলার মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন। তবে মূল শহরগুলো বাদ দিলে অন্যান্য শহর ও পৌরসভার মেয়র পদ এবং জেলা পর্যায়ে একেপার্টি তাদের আধিপত্য ধরে রেখেছে। একে পার্টি ও তাদের জোটের অন্য দল এমএইচপি মিলে জেলা পর্যায়ে ৬০০ এর মত পদে বিজয়ী হয়েছে। সেখানে সিএইচপি ও আইপি পার্টি মিলে পেয়েছে ২০০ এর মতো পদ।

মোট ভোটের দিক থেকেও ৫১ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে ক্ষমতাসীন জোট, যা তাদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় ছিল।

ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচনের আগে লিরার দাম পড়ে যাওয়া এবং মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার কারণে ক্ষমতাসীন দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে থাকতে পারেন শহরের ভোটাররা।









Leave a reply