ঠাকুরগাঁওয়ে ৩ গ্রামবাসী নিহত: বিজিবি’র বিরুদ্ধে করা মামলা খারিজ

|

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁও হরিপুরের বহরামপুরে গরু জব্দকে কেন্দ্র করে বিজিবি ও গ্রামবাসির সংঘর্ষে ৩ জন নিহতের ঘটনায় বিজিবি’র বিরুদ্ধে আদালতে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের দায়েরকৃত পৃথক ৩টি মামলা খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হরিপুর আমলী আদালতের বিচারক আরিফুল রহমান মামলা তিনটি খারিজ করে দিয়েছেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদসহ বিজিবি’র ৭ সদস্যের নাম উল্লেখ করে আরো পঞ্চাশজনকে অজ্ঞাত আসামি করে বিজিবির গুলিতে নিহত জয়নুলের বাবা নুর ইসলাম, নবাবের বাবা নজরুল ইসলাম ও সাদেকের ভাই আব্দুল বাসেদ বাদী হয়ে পৃথক এই ৩টি মামলা দাখিল করেন।

পরবর্তীতে এই মামলা গুলি হরিপুর থানার ওসি কেন গ্রহণ করা হয়নি জানতে চেয়ে একটি রুল জারি করেন একই আদালতের বিচারক ফারহানা খান। জারিকৃত রুলের জবাবে হরিপুর ওসি আমিরুজ্জামান জানান, সীমান্তে বিজিবি’র জব্দকৃত গরু ছিনিয়ে নেয়া, চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম ও চোরাচালান বন্ধ এবং রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিজিবি’র ওপর হামলার বিষয়ে গ্রামবাসির বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে বিজিবি, যা তদন্তাধিন রয়েছে। সে কারণেই পরবর্তীতে অন্য মামলা নেয়া হয়নি।

বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নূরল ইসলাম জানান, ঘটনার পর হত্যার বিচার চেয়ে বিজিবির গুলিতে নিহত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় হরিপুর থানায় মামলা দিতে গেলে পুলিশ তাদের মামলা গ্রহণ না করায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন তারা। কিন্তু বিজ্ঞ আদালত তাদের এ মামলাগুলি খারিজ করে দিলেন। এতে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত বাদি পক্ষ। এবিষয়ে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হবেন তারা।

উল্লেখ্য যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে বিজিবি’র সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে বেতনা ক্যাম্পের বিজিবির ছোঁড়া গুলিতে তিনজন বাংলাদেশি নিহত ও আহত হয় পনের জন। এতে বিজিবি’র প্রায় পাঁচ সদস্য আহত হয়। এঘটনায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার নিহত তিন পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তন্ময় কুমার সাহা। আর ১৫ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার নিহত দুই ব্যক্তি সহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো দুইশত পঞ্চাশ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে হরিপুর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন ৫০ বিজিবি’র নায়েব সুবেদার জিয়াউর রহমান। আর ২৪ ফেব্রুয়ারি বিজিবির বিরুদ্ধে পৃথক ৩টি মামলা দাখিল করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন। এঘটনায় স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও বিজিবির উচ্চ পর্যায়ের পৃথক তদন্ত টিম গঠন করা হলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি তদন্ত কমিটি।









Leave a reply