নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়ার পর শামীম কল করেছিল, স্বীকার করলেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা

|

নুসরাত জাহান রাফির গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়ার পর এ ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত শামীম ফোন দিয়েছিলো স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা রুহুল আমিনকে। মাত্র ৬ সেকেন্ডের গুরুত্বপূর্ণ কল রেকর্ডটি এখন তদন্ত দলের হাতে রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুহুল আমিন যমুনা টেলিভিশনের কাছে ওই ঘটনার পর একাধিক ফোন আসার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে শামীমের সাথে কী কথা হয়েছে তা স্মরণে নেই বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগে গতকাল রোববার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে অভিযুক্ত শামীম জানায়, “নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর সে দৌড়ে নিচে নেমে উত্তর দিকের প্রাচীর টপকে বের হয়ে যায়। বাইরে গিয়ে সে রুহুল আমিনকে ফোনে বিষয়টি জানায়। তখন রুহুল আমিন বলেন, ‘আমি জানি। তোমরা চলে যাও।’

এছাড়াও নুসরাত মামলা দায়ের করার পর রুহুল আমিন থানা ম্যানেজ করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন বলেও জানায় শামীম।

নুসরাতের প্রতি নিজের ক্ষোভ থাকার কথা উল্লেখ করে শাহদাত হোসেন শামীম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আরো বলেছে, “দেড় মাস আগেও সে নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু নুসরাত তা প্রত্যাখান করার পাশাপাশি তাকে অপমানও করে। এ কারণে সে নিজেও নুসরাতের প্রতি ক্ষুদ্ধ ছিল। যে কারণে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার নির্দেশে অন্যদের সঙ্গে নিয়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়”।

অন্যদিকে জবানবন্দিতে আসামি নুর উদ্দিন জানায়, গত ৪ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার সঙ্গে ফেনী কারাগারে দেখা শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ হোসেন, হাফেজ আবদুল কাদেরসহ আরও কয়েকজন। সেখানে মামলা দায়ের করার কারণে নুসরাতকে কঠিন সাজা দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষ সিরাজের অনুমতি চায়। এসময় শামীম নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার প্রস্তাব দেন। তখন অধ্যক্ষ সিরাজ তাতে সায় দেন এবং এই কাজ সম্পন্নের জন্য তার অনুসারীদের পরামর্শও দেন।









Leave a reply