আযানের সাথে সাথে শুরু হতো ওসি মোয়াজ্জেমের জন্য চাঁদা আদায়

|

ফেনীর সোনাগাজী মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা চেষ্টার ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে যাওয়া এবং রাফিকে বেআইনিভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করাসহ নানা অনিয়মের কারণে সোনাগাজী থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে। এরপর থেকেই তার অনিয়ম দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন এলাকার ভুক্তভোগিরা।

শহরে ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ওসি নিজস্ব টোকেন বানিয়ে এসবে লাইসেন্স দিয়ে বাজারে ছেড়েছেন। এসব অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি সমিতিও চালু করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে সোনাগাজী শহরে প্রায় ৫শ ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা চলে। প্রতিদিন প্রতিটি রিক্সা থেকে ‘সোনাগাজী রিক্সা শ্রমিক ও মালিক সমিতি’র ব্যানারে দশ টাকা করে নেয়া হতো। যার সিংহভাগ ঢুকতো ওসি মোয়াজ্জেমের পকেটে। এর বাইরে ভিন্ন কিছু ঘটলে থানায় এনে রিক্সা আটকে রাখা হয়। পৌর মেয়রের সাথে এবিষয়ে মতবিরোধও হয়েছে। এতদিন ক্ষতিগ্রস্তরা নীরবে সহ্য করলেও এখন ফুঁসে উঠেছে এসব শ্রমিকরা।

শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা কখন তুলতে আসেন, জানতে চাইলে রিক্সা চালক মাঈন উদ্দিন ও জয়নাল আবদীন জানান, যখন মসজিদে মুয়াজ্জিন মাগরিবের নামাজের আজান দেয়; তখন ওসি মোয়াজ্জেমের জন্য টাকা তোলা শুরু হয়। তাঁরা আরও জানান, ‘ওসি মোয়াজ্জেম শুধু রিক্সা চালক নয়, ফকির-মিসকিনদেরও রেহাই দেননি। সবার থেকে টাকা খেয়েছেন’

দক্ষিণ চরচান্দিয়া গ্রামের রিক্সা চালক মোশারফ হোসেন ও বিজয় নগর গ্রামের মাইন উদ্দিন বলেন, নুসরাত হত্যায় বিতর্কিত ওসি মোয়াজ্জেম প্রত্যাহার হলেও তার চাঁদাবাজির চক্র থেকে পরিত্রাণ পায়নি অটোরিকশা শ্রমিকরা। এখনো তারা প্রতিদিন ১০ টাকা করে চাঁদা দিয়ে যাচ্ছে। ওসি মোয়াজ্জেম এসব চাঁদাবাজির জন্য তার নিজস্ব একটি টোকেনও রয়েছে। সেটি যার কাছে থাকবে তাকে প্রতিদিন ১০ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে।

সোনাগাজী পৌরসভার মেয়র এ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, দশ টাকা করে চাঁদা নেয়ায় তার সাথে আমার মতবিরোধ হয়েছে। আমি সব ব্যাটারি চালিত রিক্সা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে সে আবার চালু করেছে।

‘সোনাগাজী রিক্সা শ্রমিক ও মালিক সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক ও লাইনম্যান মো. মাসুদ বলেন, অটোরিক্সা থেকে যে টাকা তোলা হয় তা থানার ক্যাশিয়ারের মাধ্যমে ওসির কাছে পৌঁছে যায়। কারণ আমরা কোনো নেতা নই। আমি শুধু টাকা তুলে দিই।

এবিষয়ে ‘সোনাগাজী রিক্সা শ্রমিক ও মালিক সমিতি’র ক্যাশিয়ার মো. ইসমাইল হোসেন জানান, এঘটনাটি পেপার-পত্রিকায় লেখালেখি হলে আমাদের রিক্সা চালানো বন্ধ করে দিবে। তখন আমরা না খেয়ে থাকতে হবে। আমরা চাঁদা দিয়ে হলেও চাই রিক্সা চালু থাকুক। তিনি আরও জানান, যিনি লাইনম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তাকে মাসে ৯ হাজার টাকা দিতে হয়। যে রেজিস্টার লেখেন তাকে ৬ হাজার টাকা দিতে হয়। সভাপতি- সাধারণ সম্পাদক পায় মাসে দুই হাজার টাকা, ক্যাশিয়ার পায় এক হাজার পাঁচ’শ টাকা। এই কমিটির সভাপতি লিটন ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ।

এব্যাপারে সোনাগাজী থানার ওসি তদন্ত মো. কামাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, থানায় কোনো ক্যাশিয়ার নেই। চাঁদা তোলার বিষয়টি আমি জানিনা।









Leave a reply