ভ্রমণের সময় কী খাবেন?

|

বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। ঋতুর পালা বদলে আসছে শীত। কুয়াশামাখা হিমেল পরিবেশ প্রকৃতিকে আরো নবীন করে তোলে। তাই তো শীতকালকে বলা হয় ভ্রমণের আদর্শ সময়।

ভ্রমণ নিয়ে বিখ্যাত একটি উক্তি আছে- “পৃথিবী একটা বই; যারা ভ্রমণ করে না তারা বইটি পড়তেও পারে না।” এজন্যই হয়তো শীতে যান্ত্রিক কোলাহল থেকে ক্ষণিকের মুক্তির আশায় অনেকেই অনেক রকম ভ্রমণ পরিকল্পনা করছেন। কোথায় ভ্রমণ করবেন তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো ভ্রমণ প্রস্তুতি। বের হওয়ার আগে ভালো প্রস্তুতির উপর নির্ভর করবে ভ্রমণ কতটা আনন্দময় হবে। এই শীতে আপনার ভ্রমণকে আরও আনন্দময় করতে ভ্রমণকালে স্বাস্থ্যকর খাবারের একটা ফর্দ তুলে ধরা যাক।

ভ্রমণে যেসব খাবার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী:

খেজুর:

খেজু্র তাৎক্ষণিক শক্তির উৎস হিসেবে সবার সেরা। খেজুরে আছে সহজে দ্রবণীয় খাদ্য আঁশ, যা হজম প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে। কেননা তা পাকস্থলিতে প্রচুর পানি শুষে নেয়। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও খেজুর বেশ কার্যকর। পাকস্থলির অস্বস্তিভাব দূর করতে এবং ডায়রিয়া নিরাময়েও খেজুরে থাকা পটাশিয়াম সহায়তা করে

আমলকি:

সকালে খালি পেটে আমলকির জুস পান করে বের হওয়া ভাল। তবে এই জুস পান করার পর ৪৫ মিনিট ধরে চা বা কফি পান করা যাবে না। আর নিয়মিত আমলকি জুস পান করলে আয়ুও বাড়ে। এ ছাড়া পাকস্থলিকে বিষমুক্ত করতে এবং হজম প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতেও সহায়ক আমলকি।

কাজুবাদাম:

দীর্ঘ সময় ধরে না খেয়ে থাকার পর সকালে ৫-১০টি কাজু বাদাম খেলে সারাদিন ধরে পুষ্টি ও শক্তির যোগান দেবে। কাজুবাদামের খোসাতে থাকে ট্যানিন যা পুষ্টি শোষণে বাধা দেয়। ফলে সেই খোসাটা পানিতে চুপসিয়ে নিলে তা থেকে সব পুষ্টি উপাদান সহজেই শুষে নিতে পারে আমাদের দেহ।

মিষ্টি:

পরিশ্রমের ভ্রমণ হলে কিংবা দুপুরে ক্লান্তি বোধ করলে মিষ্টি খেয়ে নিতে পারেন। মিষ্টি অল্প সময়ের মধ্যে শরীরে এনার্জি এনে দিবে। তবে হ্যাঁ, একদম খালি পেটে মিষ্টি না খাওয়াই ভাল। এছাড়াও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া সফরের জন্য ভাল। শক্ত খোসাযুক্ত ফল আম, পেঁপে, কমলা ইত্যাদি গ্রহণ করুন।স্থানীয় কোন ঐতিহ্যবাহী খাবার থাকলে তা খেয়ে দেখতে পারেন।

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার শরীরের জন্য যেমন জরুরি, তেমনি খাবার খাওয়ার সময়ও সঠিক হওয়া জরুরি। সম্প্রতি একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, কিছু খাবার রয়েছে যা খালি পেটে খাওয়া একদম ঠিক নয়। এই খাবারগুলো এসিড তৈরি করে এবং অন্ত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই জানিয়েছে, এমন কিছু খাবারের কথা।

খালি পেটে নিষিদ্ধ খাবার:

কলা:

তাৎক্ষণিক শক্তি জোগান দেওয়ার জন্য কলার জুড়ি মেলা ভার। কলার অনেক পুষ্টিগুনও রয়েছে। কিন্তু খালি পেটে কখনও কলা খাবেন না। খালি পেটে কলা খেলে শরীরে ম্যাগেনসিয়ামের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে রক্তে ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের মাত্রায় অস্বাভাবিক তারতম্য ঘটে, যার ফলে শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।

চা কিংবা কফি:

সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠার পরে এক কাপ চা অথবা কফি না খেলেই নয়। কিন্তু কখনওই খালি পেটে এই চা-কফি খাবেন না। কারণ, চা-এর মধ্যে অ্যাসিডের উপস্থিতি যথেষ্ট বেশি পরিমাণে থাকে। আর কফিতে থাকে ক্যাফেইন। খালি পেটে খেলে এই অ্যাসিড এবং ক্যাফেইন পাকস্থলীর আস্তরণের ক্ষতি করে। ফলে আর কিছু না হোক, খালি পেটে চা অথবা কফি খাওয়ার আগে অন্তত এক গ্লাস পানি খেয়ে নেবেন।

সোডা বা কোল্ড-ড্রিংকস:

সোডা বা কোল্ড-ড্রিংকসে যে চিনি বা আর্টিফিশিয়াল সুইটনার থাকে, খালি পেটে খেলে সেগুলি শরীরের পক্ষে যথেষ্টই ক্ষতিকারক। এই আর্টিফিশিয়াল সুইটনারের মধ্যে বিভিন্ন কার্বোনেটেড অ্যাসিডস থাকে, যেগুলি পাকস্থলীর অ্যাসিডের সঙ্গে মিশে গিয়ে পেট গোলানো অথবা বমি, বমি ভাব এবং বুক-জ্বালাও শুরু হতে পারে।

টমেটো:

খেতে যতই ভালো লাগুক না কেন, খালি পেটে টমেটো ক্ষতিকারক। খালি পেটে খেলে টমেটোয় থাকা অ্যাসিডের সঙ্গে গ্যাসট্রোইনটেস্টাইনাল অ্যাসিড মিশে গিয়ে এক ধরনের জেল তৈরি হয়, যা থেকে পাকস্থলীতে পাথর পর্যন্ত জমতে পারে।

দই:

দইয়ের প্রোবায়োটিক উপাদান স্বাস্থ্যকর। তবে যদি এটা খালি পেটে খাওয়া হয় তবে উল্টো ক্ষতিকর। দইয়ে থাকা ব্যাকটেরিয়া পাকস্থলির আবরণের রসের সাথে মিশে পেটকে খারাপ করতে পারে। চা-ও কফির মতো, খালি পেটে খাওয়া ঠিক নয়।

ভ্রমণে যেসব খাবার বর্জনীয়:

  • আইসক্রিম বারবার গলে যাওয়া আবার জমাট বাঁধা এমন একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায় ফলে আইসক্রিমে অনেক বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকে। তাই পছন্দের তালিকায় থাকলেও আইসক্রিমকে না বলুন।
  • পাতলা খোসাযুক্ত ফল আপেল, জাম ইত্যাদিতে পরিহার করুন, কারণ এই ফলগুলো হতে সহজেই ব্যাকটেরিয়া আপনার শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
  • অল্প সিদ্ধ মাংস কিংবা অপাস্তুরিত দুধ খাবেন না।
  • ভ্রমণের সময় কার্বনেটেড খাবার ও পানীয় থেকে দূরে থাকুন
  • ফাস্ট ফুড আর তেলযুক্ত খাবার থেকেই গ্যাস সমস্যার সৃষ্টি করে। তাই এসব খাবার থেকে বিরত থাকুন।

একবারে বেশি করে খাবার না গ্রহণ করাই উচিত। কারণ পুরো ভুঁরিভোজ শরীরে আলস্য নিয়ে আসে যা ভ্রমণে একান্তই কাম্য নয়।

শেষ কথা:

শীতে সর্দি-জ্বর, কাশি, চোখ ওঠা, ডায়রিয়া, আমাশয়, নিউমোনিয়া প্রভৃতি রোগ হয়ে থাকে। সম্ভব হলে প্রয়োজন মত সাথে করে ওষুধ রাখুন। জ্বর, পেট খারাপ, অ্যাসিডিটি, বমি, মাথা ধরার ওষুধ নিয়ে নিন। আরো নিন ব্যান্ড এইড, অ্যান্টিসেপটিক, পরিমাণ মতো তুলো ও গজ। এগুলো সঙ্গে থাকলে অনেক বড় বিপদ থেকেও রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

লেখা: সিয়াম বিনতে মাহফুজ









Leave a reply