ধার না দেওয়ায় শ্যালককে শ্বাসরোধে হত্যা করল ভগ্নিপতি

|

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মাত্র দুই হাজার টাকা ধার না দেওয়ায় আপন শ্যালককে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে ভগ্নিপতি ও তার দুই সহযোগী। রবিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন উক্ত হত্যাকাণ্ড রহস্য উন্মোচিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য যে, গত ১৪ এপ্রিল মধ্য রাতে নাসিরনগর উপজেলার ভলাকূট ইউনিয়নের বাঘী গ্রাম থেকে রাহুল সরকার (১৬) নামে এক স্টেশনারী দোকানদারের লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সে উক্ত গ্রামে যোগেন্দ্র সরকারের ছেলে।
এই ঘটনায় গত ২৭ এপ্রিল (শনিবার) মধ্য রাতে নিহত রাহুল সরকারের ভগ্নিপতি প্রহল্লাদ সরকারকে (৪৫) গ্রেফতারের পর হত্যার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। প্রহল্লাদ সরকার উপজেলা চাতলপাড় গ্রামের কৈরল কোপার মৃত রাজ গোবিন্দের ছেলে। প্রহল্লাদ বাঘী গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই থাকতেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন আরও জানান গত ১৩ এপ্রিল রাতে দোকান বন্ধ করে ফেরার পথে নিখোঁজ হন রাহুল সরকার। নিখোঁজের পর তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে পাওয়া যাচ্ছিল না। এরই এক পর্যায়ে রাহুলে দোকানের কাছাকাছি একটি ডোবার পাড়ে তার লাশ পাওয়া যায়। রাহুলের লাশ উদ্ধারের পর তার মামা দ্বীজেন্দ্র বিশ্বাস বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলার পর বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে গত ২৭ এপ্রিল মধ্যরাতে সন্দেহভাজন রাহুলের আপন ভগ্নিপতি প্রহল্লাদ সরকারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে সে এই হত্যায় আরো দুইজন জড়িত থাকার কথা জানায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও জানান প্রহল্লাদ সরকার কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সজিব ব্রিক ফিল্ডে (ইটভাটা) কাজ করেন। ঘটনার আনুমানিক ১৫/২০ দিন পূর্বে ব্রিক ফিল্ড হতে বাড়িতে আসেন তিনি। আর ঘটনার চার দিন আগে প্রহল্লাদ সরকার তার শ্যালক রাহুলের কাছে দুই হাজার টাকা ধার চান। তখন রাহুল সরকার টাকা না দিয়ে প্রহল্লাদ সরকারের মাকে নিয়ে গালি-গালাজ করে। এতে প্রহল্লাদ রাহুলের উপর ক্ষুব্ধ হন।

কিছু দিন পর স্থানীয় আরো দুইজনের সাথে যোগাযোগ হয় প্রহল্লাদের। তারাও রাহুলের কাছে টাকা ধার চাইলে না দিয়ে গালাগালি করতো। এ জন্য তারা তিনজন মিলে রাহুলকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়।

ঘটনার দুই দিন আগে রাহুলের দোকানের একটু দূরে রাস্তার পাশে প্রহল্লাদসহ বাকী দুইজন একত্রিত হয়ে পরামর্শ করে। ১৩ এপ্রিল রাত ১১টায় রাহুল দোকান বন্ধ করে বাড়িতে যাওয়ার সময় তিনজন মিলে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে।
পরে তিনজন রাহুলের লাশ যোগেন্দ্র সরকারের পুকুরের পাড়ে ফেলে রেখে যায়। হত্যার পর লাশের পাশে ইদুর মারার বিষ ছিটিয়ে রাখে তারা। পরে তারা যে যার মতো বাড়িতে চলে যায়।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান শনিবার আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দি দিয়েছেন প্রহল্লাদ সরকার। বাকী আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।









Leave a reply