চুয়াডাঙ্গায় কওমি মাদ্রাসায় ১ম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ: শিক্ষক গ্রেফতার

|

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:

চুয়াডাঙ্গা শহরের বাগান পাড়া এলাকায় শারমীনা হক হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসায় ১ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে রোববার রাতে বিক্ষুব্ধ লোকজন অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকের বিচারের দাবিতে মাদ্রাসাটি ঘেরাও করে। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক জহুরুল ইসলামকে আটক করেছে।

আটককৃত শিক্ষক জহুরুল ইসলাম যশোরের ছাতিয়ানতলা রাজাপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদ মোল্লা।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ ফকরুল আলম খাঁন জানান, শবে বরাতের রাতে মাদ্রাসার অন্য সব শিক্ষার্থীরা যখন নামায শেষে ঘুমাতে যায়। তখন ওই মাদ্রাসার আরবি শিক্ষক জহুরুল ইসলাম ৯ বছরের ওই শিশুকে উপরে নিয়ে যায় তার কক্ষে। এরপর ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য ওই শিক্ষক শিশুটিকে ১০ টাকাও দেয়।

মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জানান, ঘটনাটি সকালে জানাজানি হলে বিষয়টি মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদকে জানানো হয়। কিন্তু গত এক সপ্তাহেও এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা শামিম হোসেন জানান, রোববার সন্ধ্যার পর বিষয়টি মাদ্রাসার বাইরে জানাজানি হলে স্থানীয় শত শত মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে তারা মাদ্রাসাটি ঘেরাও করে। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছিয়ে অভিযুক্ত আরবি শিক্ষক জহুরুল ইসলামকে আটক করে থানাতে নিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এদিকে, খবর পেয়ে রাতেই অতি: পুলিশ সুপার কানাই লাল সরকার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াশিমুল বারী, নেজারত ডেপুটি কালেক্টরেট (এনডিসি) সিব্বির আহম্মেদ ও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ ফকরুল আলম খাঁন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা শারমীনা হক হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ঘটনার এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও মাদ্রাসাটির পরিচালনা পর্ষদ এ বিষয়ে কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় ছিলো তারা।

এ ব্যাপারে অতি: পুলিশ সুপার কানাই লাল সরকার সাংবাদিকদের জানান, নির্যাতনের শিকার ওই শিশুর জবানবন্দী ও মাদ্রাসার সাধারণ ছাত্রদের সাথে কথা বলে প্রাথমিকভাবে নির্যাতনের প্রমাণ মিলেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও তদন্ত করা হবে। তদন্তে সত্যতা মিললে মাদ্রাসাটির পরিচালনা পর্ষদকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

যমুনা অনলাইন/ইএ









Leave a reply