পাথরে আহত শিশু, ট্রেনে অসহায় বাবা

|

ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী একটি ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ফলে জিসান নামের ৪ বছরের একটি শিশু আহত হয়েছে। পাথরের আঘাতে শিশুটির মাথার পেছনে গভীর ক্ষত হলেও অসহায়য়ের মতো চেয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার নেই বাবার।

চিকিৎসার জন্য তাকে চলন্ত ট্রেনেই অসহায়ের মতো রাজশাহীতে আসা পর্যন্ত দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। শিশুটি বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছে।

এদিকে খবর পেয়ে রেলওয়ে পশ্চিম বিভাগের জিএম কর্মকর্তাদের নিয়ে শিশুটিকে দেখতে সোমবার দুপুরে রামেক হাসপাতালে যান।

শিশুটির বাবা সালাম জানান, তারা রোববার পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে স্বপরিবারে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে আসছিলেন। ট্রেনটি সন্ধ্যা নাগাদ জামতইল স্টেশনের কাছে আসলে চলন্ত ট্রেনে বাইরে থেকে একটি পাথর ছুটে এসে জিসানের কানের পাশে মাথার পেছনের অংশে আঘাত করে।

তিনি জানান, এ সময় জিসান চিৎকার দিয়ে ওঠে। তার মাথা ও ঘাড় রক্তে ভেসে যেতে থাকে। তার বাবাসহ ট্রেনের বগিতে থাকা সব যাত্রী দ্রুত মাথার ক্ষত স্থানে কাপড় দিয়ে জড়িয়ে দেন এবং পানি ঢালতে থাকেন।

সময়ের সঙ্গে রাত হতে থাকায় শিশুটি আর্তনাদ করতে থাকে। তবে চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে অসহায়ের মতো দীর্ঘক্ষণ ট্রেনে অপেক্ষা করতে হয়। রাত ৯টার দিকে ট্রেনটি রাজশাহীতে পৌঁছালে পরিবারে সদস্যরা তাকে দ্রুত রামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শিশুটিকে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করে।

আহত শিশুটিকে রামেক হাসপাতালে দেখতে এসে রেলওয়ে পশ্চিমের জিএম খোন্দকার শহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সত্যিই দু:খজনক। আমাদের পুরো জাতির জন্য এটা লজ্জার। শিশুটিকে দেখেই মায়া লাগছে। তার মাথা পেছনে এক ইঞ্চি মতো গর্ত হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, এই বিষয়টি প্রতিরোধে শুধু রেল কর্তৃপক্ষ নয়, সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এমন ঘটনা প্রতিরোধে রেলের কঠোর আইন আছে। তবে শুধু আইন দিয়ে এই বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।









Leave a reply