ব্রহ্মপুত্র নদে নৌকা ডুবিতে শিশুসহ ৩ জনের লাশ উদ্ধার

|

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার সদর উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদে নৌকা ডুবির ঘটনায় এক শিশু ও দুই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নৌকা ডুবির ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছে অন্তত ৭ জন। স্থানীয় এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা অব্যহত রেখেছেন। এরআগে, মঙ্গলবার (৭ মে) সকাল পৌনে ১১টার দিকে সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের ধুতিচরা এলাকায় নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে গিদারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ ইদু জানান, গিদারী ইউনিয়নের ৩০-৪০ জন নারী-পুরুষ একটি নৌকা করে চরের ধুতিচর এলাকায় যাচ্ছিলেন। প্রতিদিনের মতো নৌকা থাকা নারী-পুরুষরা চরে তাদের জমি থেকে ভুট্টাসহ অনান্য ফসল কাটতে যাচ্ছিলেন। ধুতিচর এলাকায় পৌঁছানোর আগ মহুর্তে হঠাৎ করে নৌকাটি ডুবে যায়। এতে নৌকা থাকা নারী-পুরুষরা ডুবে যায়। পরে অনেকে সাঁতার কেটে তীরে ফিরে আসলেও শিশুসহ নিখোঁজ হয় অন্তত ১০ জন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে রোকেয়া বেগম (৪০) নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার। এরপর খবর পেয়ে রংপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সান্তনা (১০) নামে এক শিশুসহ ফিরোজা বেগম (৩৫) নামে আরও এক নারীর লাশ উদ্ধার করে। উদ্ধার তৎপরতায় এ পর্যন্ত এক শিশু ও দুই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। নৌকাতে অতিরিক্ত লোকজন নেয়ার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

রংপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার খোরশেদ আলম জানান, খবর পেয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে এক শিশু ও এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া নিখোঁজদের উদ্ধারে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে নারীর সংখ্যাই বেশি।

নৌকা ডুবির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উত্তম কুমার সরকার। এ সময় তিনি বলেন, ‘নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী তোলায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা কথা জানান’।

এদিকে, নৌকা ডুবির ঘটনার পর থেকে নিখোঁজদের স্বজনরা লাশের অপেক্ষায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থান করছেন। এছাড়া উদ্ধার হওয়া শিশুসহ দুই গৃহবধূর লাশ তার স্বজনরা নিজ বাড়িতে নিয়ে গেছেন।

নিহত রোকেয়া বেগম গিদারী ইউনিয়নের ধুতিচরা গ্রামের ইনছার আলীর স্ত্রী, ফিরোজা বেগম দক্ষিণ গিদারী গ্রামের মৃত আজিজল মুন্সির স্ত্রী ও সান্তনা খাতুন (১০) একই গ্রামের সাজু মিয়ার মেয়ে। এছাড়া নিখোঁজদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন, মেরেনা আকতার ও আঙুর মিয়া। তবে অন্যদের নাম পরিচয় এখনো জানা যায়নি।









Leave a reply