তীব্র দাবদাহে চুয়াডাঙ্গায় বিপর্যস্ত জনজীবন

|

আরিফুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা
তীব্র তাপদাহে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে চুয়াডাঙ্গার জনজীবন। প্রখর রোদের কারণে গরম বাতাস শরীরে লাগছে আগুনের হলকার মতো। ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই এতটুকু। শিশু ও বৃদ্ধরা গরমে নাকাল হয়ে পড়েছে সবচেয়ে বেশি। কর্মজীবী মানুষ বাইরে বের হলেই অতিরিক্ত ঘামে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। এতে সবচেয়ে বিপাকে পড়ছেন দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলো। গত কয়েকদিন টানা তাপদাহের কারণে হিটস্ট্রোকসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছেন প্রতিদিন অনেক মানুষ।

গত এক সপ্তাহ ধরে উর্দ্ধমূখী চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা। উঠানামা করছে ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রীর মধ্যে। যা গত কয়েক বছরের মধ্যে রেকর্ড। সোমবারও চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ছুঁয়েছে ৩৪ দশমিক ৪ ডিগ্রীতে।

অব্যাহত তাপমাত্রা বাড়ায় নাজেহাল সাধারণ মানুষ। যেন ঘর থেকেই বের হওয়ায় দায় হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির দেখা না মেলায় গরমের তীব্রতা ক্রমই বাড়ছে। যেন শরীরে আগুনের ছেঁকা লাগছে। এই দাবদাহের দাপটে মানুষ ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছেন। তীব্র গরমের কারণে দুপুরের আগেই শহরের বেশিরভাগ এলাকা প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। একটু স্বস্তির জন্য অনেকে গাছতলা বা পার্কে গিয়ে বসার চেষ্টা করেছেন। সেখানেও তপ্ত হাওয়ার ছোবল। যেন বাতাসে আগুনের হল্কা। এই পরিস্থিতিতে শুধু মানুষেরই নয়, পশুপাখির প্রাণও ওষ্ঠাগত। ফ্যানের বাতাস গরম। আসবাবপত্র, বিছানা এমনকি ঘরের ফ্লোর পর্যন্ত গরম হয়ে যাচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা শহরের বাগান পাড়ার বাসিন্দা রিপা খন্দকার জানান, গত কয়েক দিনের ভ্যাপসা গরমের সাথে ভেল্কিবাজি শুরু করেছে বিদ্যুত। লোডশেডিং তো আছেই, তার সাথে আছে লোভোল্টেজের দুর্ভোগ। এতে বাড়িতে সিলিং ফ্যান চলছে ধীর গতিতে।

এদিকে তীব্র গরমে সব থেকে বেশী কষ্টে রয়েছে চুয়াডাঙ্গার দিন আনা দিন খাওয়া মানুষেরা। তাপদাহের কারণে স্বাভাবিক জীবিকা নির্বাহ করতে পারছেন না তারা। ফলে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে শ্রমজীবী এসব খেটে খাওয়া মানুষ।

সোমবার দুুপরে শহরের শহীদ হাসান চত্বরে কথা হয় রিকশা চালক রহিম মিয়ার সাথে। তিনি জানান বয়স বেড়েছে। প্রচন্ড গরমের কারণে শরীর চলে না। নিজে এ্যাজমার রোগী। একটু রিকশা চালালেই অসুস্থ হয়ে পড়ছি। বাড়িতে খাবার নেই, তাই অসুস্থ শরীরেই রিকশা চালাতে এসেছি। কিন্তু গরমের কারণে মানুষ তেমন বাইরে বের হচ্ছে না।

অব্যাহত তাপদাহে হিটস্ট্রোকে আক্রান্তসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষ হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছেন। প্রতিদিন গড়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালেই চিকিৎসা নিচ্ছেন দুই থেকে আড়াইশ রোগী। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের বারান্দাতেই চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: শামীম কবির জানান, প্রতিদিন গড়ে একশো নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়াসহ গরমজনিত নানা রোগে। এতে করে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ স্টাফদের হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসা দিতে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি সাধ্যমত।

এদিকে আবহাওয়ার সর্তক বার্তায়ও নেই কোন সুখবর। চুয়াডাঙ্গার আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অফিসের পর্যবেক্ষক সামাদুল হক জানান, ভৌগলিক অবস্থার কারণে চুয়াডাঙ্গাতে অতিরিক্ত গরম পড়ছে। আগামী দুই/তিনদিনের মধ্যে বৃষ্টি মিলবে না। এতে করে তাপমাত্রা আরো বৃদ্ধি পাবে।









Leave a reply