রাবি’র ভিসিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ

|

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড.আব্দুস সোবহানকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে সাবেক এক শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীর অভিযোগ, আচার্য’র অনুমতি ছাড়া ও তথ্য গোপন করে ভিসির পদ থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে নিজ বিভাগে যোগদান, আরেকজনকে ভিসির দায়িত্ব প্রদান, নিজ সম্পর্কিত বিষয়ে নিজেই সিন্ডিকেটের সভাপতিত্ব করেছেন বর্তমান ভিসি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগ্যাল সেলের প্রশাসক ড. শাহিন জোহরা জানান, তারা লিগ্যাল নোটিশ পেয়েছেন কিন্তু ভিসি অফিসিয়ালি নোটিশের প্রধান কপি গ্রহণ করেননি।

কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী সালমান ফিরোজ ফয়সাল এর পক্ষে সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী মুহা.মুজাহিদুল ইসলাম রাবি ভিসি ও রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সচিবসহ ৬ জনকে নোটিশ প্রেরণ করেছে।

নোটিশ প্রাপ্তরা হলেন, রাবি ভিসি অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সচিব, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও বর্তমানে বিলুপ্ত ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি।

নোটিশে বলা হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ২০১৭ সালের ৭ই মে চার বছরের জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে অধ্যাপক ড.এম আব্দুস সোবহানকে দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগ প্রদান করেন। ওইদিনই ড.এম আব্দুস সোবহান যোগদান করেন। কিন্তু তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতির ও আচার্য এর পূর্বানুমতি ছাড়া ২০১৭ সালের ২১ শে জুন সকালে ভিসির পদে থেকে নিজ বিভাগ অর্থাৎ ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে, অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেন। এবং একই দিন বিকালে ওই পদ থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। সে কারণে ২০১৭ সালের ২১ শে জুন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভিসির পদে সাময়িক শূণ্যতা সৃষ্টি হয়। ভিসি পদের সাময়িক শূণ্যতা পূরণে রাষ্ট্রপতির অনুমতি ছাড়া তৎকালীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. আখতার ফারুককে দ্বায়িত্ব প্রদান করেছিলেন। যা বেআইনি ও নীতির বিরোধী।

ওই লিগ্যাল নোটিশে দাবি করা হয়, অধ্যাপক ড.এম আব্দুস সোবহান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৭৩ লঙ্ঘন ও প্রতারনার মাধ্যমে শিক্ষকতা থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং ভিসির পদে বহাল আছেন।

লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ২৫ জুলাই তারিখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এক্সট্রা অর্ডিনারী সভায় অধ্যাপক ড.এম আব্দুস সোবহানের স্বেচ্ছায় অবসর অনুমোদিত হয়। ওই সিন্ডিকেট সভায় তিনি নিজেই সভাপতিত্ব করেছিলেন,যা বেআইনি।

লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ড.এম আব্দুস সোবহান ২০১৭ সালের ২৪ জুন মহামান্য রাষ্ট্রপতি বরাবর একটি আবেদন প্রেরণ করেছিলেন। যে আবেদনে ওই মাসের ২৯ তারিখে অবসর গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু ওই আবেদনের আগেই ২১ জুন তিনি অবসর গ্রহণ করেছিলেন। অসত্য ও ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য সরবরাহ অনৈতিক ও বেআইনি বলেও উল্লেখ করা হয়।

লিগ্যাল নোটিশে দাবি করা হয়েছে, ২০১৭ সালের ৯ জানুয়ারী অর্থ মন্ত্রণালয় পেনশন সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী “১ জুলাই ২০১৭ তারিখ হতে পেনশনারগণ তাদের প্রাপ্য পেনশনের শতকরা ৫০ ভাগ বাধ্যতামূলক সমর্পণ করে অবশিষ্ট ৫০ ভাগের জন্য নির্ধারিত হারে মাসিক পেনশন প্রাপ্য হবেন।”

ওই প্রজ্ঞাপনের পর সিন্ডিকেটের ৪৭৩তম সভায় অধ্যাপক ড.এম আব্দুস সোবহান নিজেই সভাপতিত্ব করেন। এবং তার ভবিষ্যত তহবিলের জমাকৃত অর্থ সুদসহ উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে তার পেনশন ভাতার আশি লক্ষ সাতাশি হাজার আট’শ উনশত্তর টাকা সোনালী ব্যাংকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে উত্তোলন করেছেন।

নোটিশ প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে অধ্যাপক ড.এম আব্দুস সোবহানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদ থেকে অপসারণ
না করা হলে সুপ্রিম কোর্টে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অধ্যাপক ড.এম আব্দুস সোবহান এর মোবাইলে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।









Leave a reply