মহিমাগঞ্জ সুগার মিলের কর্মচারীদের সাড়ে ৫ কোটি টাকা বেতন বকেয়া

|

জিল্লুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা

রংপুর চিনিকলের আওতাধীন গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জ সুগার মিলের শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন-মজুরী নেই গত চার মাস ধরে। মিলের সাড়ে চার শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারীদের চার মাসে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা বেতন বকেয়া রয়েছে। ঈদে বোনাসসহ বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়াবে ৬ কোটি টাকার উপরে। দীর্ঘ চার মাস ধরে বেতন-মজুরী না পাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন শ্রমিক-কর্মচারী। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা।

মিল কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্রমাগত লোকসানের কারণেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া গুদামে অবিক্রিত অবস্থায় ৪ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন চিনি পড়ে আছে। চিনি অবিক্রিত থাকায় শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। তবে ঈদের আগেই বকেয়া বেতন-মজুরী পরিশোধে চেষ্টার কথা জানিয়েছে মিল কৃর্তৃপক্ষ।

শ্রমিক-কর্মচারীরা জানান, গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত চার মাসের বেতনের জন্য মিল কর্তৃপক্ষ চিনি বিক্রি করেছেন। তবে চিনি বিক্রি করে কর্তৃপক্ষ তাদের ১৬ থেকে ২০ ভাগ কমিশন কেটে চার মাসের বকেয়া বেতন দিয়েছেন। কিন্তু এবার বকেয়া চার মাসের বেতনের টাকা আর আসছে ঈদের বোনাসসহ পাওয়া টাকা পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা যেন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের।

মিলের শ্রমিক আতোয়ার রহমান বলেন, ‘চিনি বিক্রি হচ্ছেনা এমন অজুহাতে কর্তৃপক্ষ চার মাস ধরে তাদের বেতন-মজুরির টাকা দিচ্ছেন না। এতে তাদের চরম আর্থিক কষ্টে পড়তে হয়েছে। টাকার অভাবে ঠিকভাবে সংসার চালাতে পারছেন না। তাছাড়া ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচও দিতে পারছেনা। এ অবস্থা থাকলে ঈদে স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে কি করবেন সেই ভাবনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন’।

আবদুর রহমান নামে অপর এক শ্রমিক বলেন, ‘চলতি মৌসুমে মিল চালুর সময় তাদের বকেয়া পড়ে চার মাসের। পরে চিনি বিক্রি করে তাদের চার মাসের বেতন দিলেও ১৬ থেকে ২০ পারসেন্ট কেটে নেয় মিল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে মিলের প্রায় সাড়ে চার শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী চার মাসের বকেয়া না পেয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন। ঈদের আগে বেতনের জন্য বলা হলেও তা অনিশ্চিত’।

শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সহ সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ফটু নেতা বলেন, ‘চার মাসে সাড়ে চার শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন হিসেবে প্রায় ৫ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। ঈদের বোনাসসহ পাওনা টাকার পরিমান দাঁড়াবে প্রায় ৬ কোটির উপরে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত বকেয়া পরিশোধে কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। এ অবস্থা চললে শ্রমিক-কর্মচারীরা ঈদের আগে কি অবস্থার সৃষ্টি হবে তাও অজানা। তবে ঈদের আগেই শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-মজুরী পরিশোধের দাবি জানান তিনি’।

এদিকে, শুধু শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-মজুরী নয়, মিলের আওতায় আখ চাষিদের পাওনা আছে প্রায় ৭ কোটি টাকা। এসব পাওনার জন্য মিল কর্তৃপক্ষের গাফিলাতিকেই দায়ি করছেন চাষীরা। মিলের আওতাধীন মহিমাগঞ্জের চাষি আনারুল ইসলাম বলেন, ‘মিলে আখ দিয়েও টাকা পাচ্ছেনা তারা। বারবার ঘুরেও নানা অজুহাতে টাকা দিচ্ছেন না কর্তৃপক্ষ। এতে সময় মতো টাকা না পেয়ে আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষীরা’।

এ বিষয়ে মুঠফোনে মিলের ব্যস্থাপনা পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মিলের গুদামে গত বছর ও এ বছরের উৎপাদিত চিনি অবিক্রিত অবস্থায় রয়েছে। এসব চিনি বিক্রি করতে পারলেই এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না। তবে বর্তমান এ পরিস্থিতি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঈদের আগেই অবিক্রিত চিনি বিক্রির চেষ্টা চলছে। চিনিগুলো বিক্রি করা সম্ভব হলেই শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-মজুরী পরিশোধ করা হবে’।









Leave a reply