আমেথিতে স্মৃতি ইরানির কাছে ধরাশায়ী হচ্ছেন রাহুল

|

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, দেশজুড়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছে ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট।দেশজুড়ে কংগ্রেসের আবারও ভরাডুবির খবর পাওয়া যাচ্ছে।এমনকি ভরাডুবির প্রভাব পড়েছে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর নিজ আসনটিতেও।

রাহুল গান্ধী এবার নির্বাচন করছেন দুটি কেন্দ্র থেকে।উত্তর প্রদেশের আমেথি ও কেরালার ওয়েনাড। আমেথিতে রাহুলের চেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি।আমেথি কংগ্রেসের ঘাটি হিসেবেই পরিচিত। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি ও আনন্দবাজারের খবরে এ তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় লোকসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ফলে দেখা গেছে, ১৯৩ আসনে এগিয়ে আছে নরেন্দ্র মোদির এনডিএ জোট। আর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট ৬৯ আসনে এগিয়ে আছে।

উত্তর প্রদেশের আমেথি আসনের প্রাথমিক ফলে দেখা গেছে, রাহুল গান্ধী তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী স্মৃতি ইরানির চেয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছেন।

বিজেপির প্রার্থী স্মৃতি ইরানি এই আসনে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে বেশ সক্রিয়ভাবে প্রচার চালান। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, রাহুল গান্ধী তাঁর আসনকে গুরুত্ব দেননি।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আমেথিতে রাহুলের কাছে পরাজিত হন স্মৃতি ইরানি। তবে রাহুলের জয়ের ব্যবধান কম ছিল। ২০১৪ সালে মার্জিন কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৭ হাজারে।

লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী উত্তর প্রদেশের আমেথি ছাড়াও এবার ভোটে লড়েছেন কেরালার ওয়েনাড থেকে। সেখানে তিনি বহু ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।

রাহুল গান্ধী ওয়েনাড থেকে প্রার্থী হওয়ার পর প্রশ্ন ওঠে, তিনি কি তাহলে আমেথিকে আর নিরাপদ ভাবছেন না? তবে কংগ্রেস তা অস্বীকার করে।

উত্তর প্রদেশের আমেথি বরাবরই কংগ্রেসের আধিপত্য। ১৯৬৭ সাল থেকে মাত্র দুবার এই কেন্দ্র কংগ্রেসের হাতছাড়া হয়েছে। প্রথমবার ১৯৭৭ সালে। জিতেছিলেন জনতা পার্টির রবীন্দ্র প্রতাপ সিং। দ্বিতীয়বার ১৯৯৮ সালের ভোটে। কংগ্রেস ছেড়ে আমেথির রাজা সঞ্জয় সিং বিজেপিতে যোগ দিয়ে তখন জেতেন। এই দুই ব্যতিক্রম ছাড়া কংগ্রেস ও আমেথি সমার্থক।

১৯৮০ সালে এখান থেকে জিতেছিলেন ইন্দিরা-তনয় সঞ্জয় গান্ধী। তাঁর মৃত্যুর পর পরপর তিনবার এই কেন্দ্র থেকে জেতেন রাজীব গান্ধী।১৯৯১ সালে রাজীবের মৃত্যুর পর গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ সতীশ শর্মা কংগ্রেস প্রার্থী হয়ে এই কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হন। মাঝখানে ১৯৯৮ সালে নির্বাচিত হন সঞ্জয় সিং। ১৯৯৯ সালে জেতেন সোনিয়া গান্ধী। ২০০৪ সাল থেকে কেন্দ্রটি রয়েছে রাহুল গান্ধীর দখলে।

ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভার ৫৪৩ আসনে ভোট হয়েছে। কোনো দলকে সরকার গঠন করতে হলে পেতে হবে ২৭২টি আসন।









Leave a reply