ডেমরা-যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা-রামপুরা সড়কে বেপরোয়া চালক, বাড়ছে দুর্ঘটনা

|

মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া

নগরীর ডেমরা-যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা-রামপুরা সড়কের যানবাহন বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে। এতে যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এ দুই রুটের চালক ও হেলপারদের অধিকাংশ মাদকাসক্ত। অথচ পরিবহন মালিকরা জেনেও অতিরিক্ত মুনাফার আশায় এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এছাড়াও পরিবহন সেক্টরে ব্যাপক চাঁদাবাজির কারণে খরচ ও মজুরি টার্গেট পূরণ করতে দ্রুত যাওয়ার প্রতিযোগিতাও মেতেছেন চালকরা। সংশ্লিষ্ট পরিবহন সেক্টর কর্তৃপক্ষসহ পুলিশের বিনা নজরদারি ও অভিযান না থাকায় সড়কে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা প্রতিরোধ হচ্ছে না।

জানা যায়, নগরীর ডেমরা-যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা-রামপুরা সড়ক হয়ে নগরীর বিভিন্ন রুটে কয়েকটি কোম্পানির বাস ও যাত্রীবাহী লেগুনা চলাচল করে। এর মধ্যে মিরপুর থেকে স্টাফ কোয়ার্টার রুটে অছিম পরিবহনের প্রায় ৪০টি বাস, মোহাম্মদপুর থেকে স্টাফ কোয়ার্টার রুটে রাজধানী পরিবহরেন ৩০টি বাস। একই রুটে রমজান পরিবহনের ২০ থেকে ২২টি বাস ও স্বাধীন পরিবহনের ৩০টি বাস চলছে। আবদুল্লাহপুর ভায়া স্টাফ কোয়ার্টার হয়ে বন্দর থানাধীন মদনপুরে চলছে ৩০-৩৫টি বাস। ডেমরা-রামপুরা সড়কের মেরাদিয়া থেকে মিরপুর রুটে আলিফ পরিবহনের চলছে ৩০-৩৫টি বাস। একই রুটে রবরব পরিবহনের চলছে ৩০-৩৫টি বাস। রামপুরা থেকে মাদারটেক পর্যন্ত ২২টি যাত্রীবাহী লেগুনা চলছে।

ডেমরা-যাত্রাবাড়ীসহ আশপাশে শতাধিক যাত্রীবাহী লেগুনা চলাচল করছে। একই রুটে গুলিস্তান থেকে রূপগঞ্জের গাউছিয়া পর্যন্ত গ্রিন বাংলা পরিবহনের চলছে ১২টি যাত্রীবাহী মিনি বাস। গুলিস্তান থেকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত আসিয়ান কোম্পানির চলছে ১৬টি বাস। একইভাবে রানীমহল পরিবহনের নামে চলছে আরও ১৬টি বাস।

চালকদের বেপরোয়ানায় ইদানীং পরপর কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ডেমরা-রামপুরা সড়কে। ২৩ মে সন্ধ্যায় বনশ্রীর আল রাজি হাসপাতালের সামনে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় মেহেদী হাসান (২৬) নামে ঢাকা কলেজের এক ছাত্র নিহত হন। ৮ মে মো. হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া (৩৮) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ৫ এপ্রিল বাসচাপায় ঘটনাস্থলেই ইবনে তাহছিম ইরাম (১৮) নামে স্থানীয় এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তার মাথার একপাশ থেঁতলে গিয়ে মগজ বেরিয়ে যায়। এ মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে শুধু দুই বাসের পাল্লা দেয়ার ঘটনা কেন্দ্র করে। ১৩ জানুয়ারি ডেমরার আমুলিয়া মডেল টাউন সংলগ্ন ডেমরা-আমুলিয়া সড়কে বাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই পেয়ারী বেগম (৫৫) নামে এক বৃদ্ধা ভিক্ষুকের মৃত্যু হয়েছে। ভাড়া ও অন্যান্য ছোট ছোট বিষয় নিয়ে প্রায়ই চালক-হেলপাররা যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। বাকবিতণ্ডা হলে অনেক সময় যাত্রীদের গাড়ি থেকে ফেলে দেয়ার হুমকিও দেয়। সড়কে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসংখ্যবার বাস চালক-হেলপারদের সঙ্গে মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়াও ডেমরা-রামপুরা সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত চালক-হেলপাররা অনৈতিক আচরণ করে। কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা কৌশলে এড়িয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, ওই দুই রুটে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ- বেপরোয়াভাবে যান চলাচল, অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও অদক্ষ চালকদের পাশাপাশি ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন। আর এসব যানবাহন পুলিশের নাকের ডগায় চলছে। এছাড়া চালকের ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইলে কথা বলা, অতিরিক্ত পণ্য ও যাত্রী পরিবহন, ট্রাফিকদের দায়িত্বে অবহেলা, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা-মনোভাব, অদক্ষতা-অসতর্কতা, দ্রুত যাওয়ার মানসিকতাসহ নানা কারণেই দুর্ঘটনা ঘটছে।

রামপুরা ট্রাফিক জোনের টিআই বিপ্লব ভৌমিক বলেন, মাদকাসক্ত চালকদের অবশ্যই কাউন্সিলিং করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাস মালিক ও সাধারণ মানুষ সবার সমন্বয়ে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কাজ করতে হবে। আর বাসের চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দরকার। কারণ তাদের সচেতনতার মাত্রা খুবই কম। সার্বক্ষণিক তাদের মানসিক চাপের মধ্যে থাকতে হয়। চালকদের মূল লক্ষ্য থাকে দ্রুত বাস চালিয়ে টাকা রোজগার, তাই সড়কে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠে। তবে ট্রাফিক বিভাগের এসবের কোনো ছাড় নেই। অনিয়মের জন্য প্রতিদিন মামলা, রেকারিং ও ডাম্পিং চলছেই যা অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: যুগান্তর









Leave a reply