বিশ্বকাপে কে উঠবে রানের চূড়ায়?

|

মুরশিদুজ্জামান হিমু

ইংল্যান্ডের আবহাওয়াটা বড্ড বেরসিক। এই রোদ উঠছে, হুট করে আবার অঝোর ধারায় বৃষ্টি। সাথে হিমেল হাওয়ার কাঁপুনি তো আছেই। এখন পর্যন্ত চলছে চলুক। ৩০ মে থেকে এমন হুটহাট আকাশের মন খারাপ না হলেই হয়। কারণ ওইদিন থেকে মাঠে গড়াবে ২০১৯ বিশ্বকাপ।

আগে থেকেই সবাই বলছেন, এবার বিশ্বকাপে রানবন্যা হবে। ইংল্যান্ডের উইকেটে নাকি কিছু নেই বোলারদের জন্য। আবার এ বিশ্বকাপে ম্যাচও বেশি। তাই অনুমান করাই যায়, এবার ছাড়িয়ে যাবে গত বিশ্বকাপ, অর্থাৎ, ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে হওয়া ২৩,২৬১ রানের রেকর্ড।

গেলবার নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপটিল ছিলেন ফর্মের তুঙ্গে। ছিলেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ৯ ম্যাচ খেলে বোলারদের বেধড়ক পিটিয়ে করেছিলেন ৫৪৭ রান। দ্বিতীয় আর তৃতীয় সর্বোচ্চ রান এসেছিল শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা আর দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাট থেকে। সাঙ্গাকারা অবশ্য গাপটিলের থেকে দুই ম্যাচ কম খেলে করেছিলেন ৫৪১ রান। গড়ও ছিল অনেক বেশি, ১০৮.২০। আর ভিলিয়ার্সের রান ৪৮২। এবারও গাপটিলের নিজেকে ছাড়িয়ে যাবার সুযোগ থাকছে। কারণ তিনি এবারও নিউজিল্যান্ড স্কোয়াডে আছেন। সাঙ্গা আর ভিলিয়ার্স আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলেছেন আগেই।

এখন প্রশ্ন আসছে, এবারের টপ স্কোরার কারা হতে পারে? ব্রিটিশ আর ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম নানা ভবিষ্যদ্বাণী করছে। তা অবশ্য সাম্প্রতিক ফর্ম এবং রেকর্ডের বিবেচনাতেই। সেই তালিকায় শুরুতেই নাম ভারতীয় অধিনায়ক ভিরাট কোহলির। টেস্ট এবং ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষে এ মুহূর্তে তিনি। বোলারদের নিয়মিত তুলোধুনা করতেও সিদ্ধহস্ত। সম্প্রতি শেষ হওয়া আইপিএলে তার দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জারস বেঙ্গালুরুর হয়ে খুব একটা জ্বলে উঠতে পারেননি। তবুও ক্রিকেটবোদ্ধা বেশিরভাগই আস্থা রাখছেন এই ব্যাটিং সেনসেশনের ওপরই।

এরপর যে দু’জনের নাম আসছে, তারা ইংলিশ ব্যাটসম্যান জনি বেয়ারেস্টো আর জো রুট। দু’জনই আছেন সেরা ফর্মে। মারকুটে জনি রীতিমত আইপিএল কাঁপিয়ে এসেছেন। হাত ঝালিয়ে নিয়েছেন সম্প্রতি পাকিস্তানের সাথে শেষ হওয়া সিরিজেও।

ধারণা করা হচ্ছে, এবার অস্ট্রেলিয়ার ট্রাম্প কার্ড হতে পারেন নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা ডেভিড ওয়ার্নার। ৪৩-এরও বেশি গড় আর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং তাকে এবারও রাখছে ২০১৯ বিশ্বকাপের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায়।

আছে ইংলিশ ব্যাটসম্যান জেসন রয়, ভারতের অ্যাটাকিং ওপেনার রোহিত শর্মার নামও। আছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ক্যান উইলিয়ামসনও। তালিকার ৮ আর ৯ নম্বরে আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান কুইন্টন-ডি কক আর ভারতের বাহাতি ড্যাশিং ওপেনার শিখর ধাওয়ান।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের অনেকেই সম্ভাব্য এই তালিকায় রাখছেন পাকিস্তানের ব্যাটিং জিনিয়াস বাবর আজমকে। নানা ইস্যু নিয়ে সব সময় আলোচনায় পাকিস্তান দল। এসবের মধ্যেই ব্যাট হাতে অট্টহাসি হেসেছেন বাবর। ৫১’র বেশি গড়ও রীতিমত ঈর্ষণীয়। এবার পাকিস্তানের মূল ব্যাটিং স্তম্ভ তিনি, তা নিয়ে বোধহয় সন্দেহ নেই কারও।

গণমাধ্যমগুলো সম্ভাব্য টপ টেন ব্যাটসম্যানের মধ্যে বাংলাদেশের কাউকে রাখছেন না। কিন্তু গেলবারের বিশ্বকাপের দিকে দেখুন। মাত্র ৬ ম্যাচ খেলে ৩৬৫ রান করে বাংলাদেশের পঞ্চপাণ্ডবের একজন মাহমুদুল্লাহ ছিলেন শীর্ষ রান সংগ্রাহকের তালিকায় ৯-এ। সেঞ্চুরি ছিল দুটি, ফিফটি একটি। অনবদ্য ১২৮ রানের একটি ঝলমলে ইনিংস ছিল তার। গড়ও ছিল ৭৩। এবারও মোটামুটি রানে আছেন এই মিডলঅর্ডার ‘কুলম্যান’। রানে আছেন ওপেনার তামিম ইকবালও। তুলনামূলক জুনিয়ররাও ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়েছেন সম্প্রতি। তাই টুর্নামেন্ট শেষে টপ টেনে বাংলাদেশের দু-একজন ব্যাটসম্যানের নাম উঠলে আশ্বর্য হবার কিছুই থাকবে না

লেখক: সাংবাদিক









Leave a reply