২০ যাত্রীর জীবন বাঁচানো সেই কনস্টেবল পারভেজ আইসিইউতে, কেটে ফেলতে হবে পা

|

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বাস ডোবায় পড়ে মৃত্যু পথযাত্রী ২০ যাত্রীকে উদ্ধারে অনন্য ভূমিকা রাখা পুলিশের সেই কনস্টেবল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউতে)চিকিৎসাধীন। সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত পারভেজের একটি পা কেটে ফেলতে হবে।

বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) পাওয়া কনস্টেবল পারভেজ মিয়া সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ার জামালদি বাসস্ট্যান্ডের সামনে তাকে ধাক্কা দেয় একটি বেপরোয়া কাভার্ডভ্যান। এতে ডান পায়ের গোড়ালি ও হাত মারাত্মক জখম হয়। তাকে প্রথমে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

জানা গেছে, সেখান থেকে ঢাকার রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠায়।

ঢামেক হাসপাতাল থেকে তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই ভর্তি। পঙ্গু হাসপাতালে তার পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।

পঙ্গু হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পারভেজকে বর্তমানে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। সেখানে তার চিকিৎসার পাশাপাশি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

পারভেজের ছোট ভাই মো. মহিউদ্দিন জানিয়েছেন, সোমবার তার পায়ে একটি অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তার জন্য আমরা ৯ ব্যাগ রক্তের ব্যবস্থা করেছি। সাত ব্যাগ লেগেছে, দুই ব্যাগ এখনও বাকি আছে।

মহিউদ্দিন জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে তার অবস্থা খুবই খারাপ। চিকিৎসকরা বলেছেন, তার ডান পার হাঁটু থেকে নিচে কেটে ফেলতে হবে। আমরা চিকিৎসকদের বলেছি, প্রয়োজনে সব ব্যবস্থা করতে, পা কেটে ফেললে কৃত্রিম পা লাগানো যাবে, আমরা শুধু তাকে ফিরে পেতে চাই।

প্রসঙ্গত,২০১৭ সালের ৭ জুলাই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চাঁদপুরগামী এক যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডোবায় পড়ে যায়। যাত্রীদের রক্ষায় জীবন বাজি রেখে ডোবায় ঝাঁপিয়ে পড়েন তৎকালীন দাউদকান্দি হাইওয়ে থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল পারভেজ মিয়া। ইউনিফর্ম পরেই পানিতে নেমে পড়েন তিনি। ২০ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেন তিনি।

পারভেজ মিয়ার ওই সাহসিকতার জন্য দেয়া হয় পুলিশের সর্বোচ্চ পুরস্কার বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম)।









Leave a reply