চাল পাচারের সময় ধরা খেলেন গুদামরক্ষক

|

স্টাফ রিপোর্টার, মাদারীপুর:

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট খাদ্য গুদামের চাল পাচারকালে হাতেনাতে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গুদামরক্ষক গাজী সালাহ উদ্দিনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন ও ১০ নং গুদাম সিলগালা করে দেন। এ ঘটনায় গুদাম রক্ষকের অপসারণ ও বিচারের দাবীতে স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের টেকেরহাট খাদ্য গুদামের সরকারি চাল দীর্ঘদিন ধরে টেকেরহাট গুদামের গুদামরক্ষক গাজী সালাউদ্দিনসহ গুদামের কয়েক কর্মকর্তা-কর্মচারী চাল পাচার করে আসছিল। বৃহষ্পতিবার রাতে ৯ নং গুদামে এবং শুক্রবার দুুপুরে ১০ নং গুদামের বাইরে তালা লাগিয়ে ভেতরে রক্ষিত প্রতি চালের বস্তা থেকে ৩-৪ কেজি চাল বের করছিল অস্থায়ীভাবে কর্মরত ২ কর্মচারী।

এসময় স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহানা নাসরিনকে খবর দিলে তিনি পুলিশ নিয়ে এসে গুদামের ভিতর থেকে সেলিম বেপারী ও মমরেজ খান নামে দুই কর্মচারীকে আটক করে।

জিজ্ঞাসাবাদে আটক কর্মচারীরা চাল পাচারের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, গুদামরক্ষক গাজী সালাহ উদ্দিনের নির্দেশে আমরা বস্তা থেকে চাল বের করছিলাম। আমরা তার চাকুরী করি তাই তার হুকুম মানতে হয়েছে। তবে সালাহ উদ্দিন চাল পাচারে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

এব্যাপারে একই গুদামের ঠিকাদার উজির শেখ বলেন, বিষয়টি টের পেয়ে আমরা ইউএনওকে খবর দিলে তিনি পুলিশ নিয়ে এসে দুইজনকে হাতেনাতে আটক করেছেন। দীর্ঘদিন থেকেই একটি চক্র এই অপকর্ম করে আসছিল।

মিলারদের সভাপতি দেলোয়ার মাতুব্বর বলেন , আমাদের কাছ থেকে ৩০ কেজির বস্তায় ৫০০ গ্রাম এবং ৫০ কেজির বস্তায় ১ কেজি করে চাল বেশী নিয়ে থাকে। এখন প্রতি বস্তায় চাল কম এটা মেনে নেয়া যায় না।

রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহানা নাসরিন বলেন, খাদ্য গুদামের সরকারি প্রতিটি বস্তা থেকে ৩-৪ কেজি চাল বের করে আলাদা করে বিক্রি করে আসছিল ওরা। আজ আমরা চাল পাচারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। এঘটনায় গুদাম সীলগালা করা হয়েছে ও জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে আগামীকাল তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।









Leave a reply