এশীয় দলগুলোর মধ্যে প্রথম ২০০ রান পেরুলো আফগানিস্তান!

|

শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্বল আফগানিস্তান দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে। ৭৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে যায় আফগানিস্তান। তবে নজিবুল্লাহ জাদরান, গুলবাদিন নাইব ও রশিদ খানের ব্যাটিং ঝলকে শেষ পর্যন্ত ৩৮.২ ওভারে ২০৭ রান তুলতে সক্ষম হয় আফগানরা।

এবারের বিশ্বকাপে এশিয়ার ৫টি দল অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে পাকিস্তান ও শ্রীলংকা তাদের প্রথম ম্যাচ খেলে যথাক্রমে ১০৫ ও ১৩৬ রান করে প্রতিপক্ষের কাছে হেরেছে। বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলার অপেক্ষায়। এদিক থেকে বলতে গেলে প্রতিবেশীদের চেয়ে ভালই করেছে আফগানরা। তিন এশীয় দলের মধ্যে প্রথম ২০০ এর কোটা পেরুলো তারা।

আফগানদের ম্যাচে নজিবুল্লাহ ও নাইবের বিদায়ের পর ইনিংসের শেষ দিকে ব্যাটিং তাণ্ডব চালান আফগানিস্তানের লেগ স্পিনার রশিদ খান। আট নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ১১ বলে ৩টি ছক্কা ও দুটি চারের সাহায্যে ২৭ রান করেন। রশিদ খানের হার্ডহিটিং ব্যাটিংয়ে দুইশ পার হয়ে ২০৭ রান তুলতে সক্ষম হয় আফগানিস্তান।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে যায় আফগানিস্তান। স্কোর বোর্ডে মাত্র ৭৭ রান তুলতে ৫ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে আফগানরা। দলকে খেলায় ফেরাতে ব্যাটিং তাণ্ডব চালান অধিনায়ক গুলবাদিন নাইব ও নজিবুল্লাহ জাদরান।

ষষ্ঠ উইকেটে ৮৩ রানের দায়িত্বশীল জুটি গড়েন তারা। অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের রীতিমতো তুলোধুনো করেন নাইব-নজিবুল্লাহ।

ইনিংসের ২৯তম ওভারে অস্ট্রেলিয়ান লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পাকে একের পর এক বাউন্ডরি হাঁকান নজিবুল্লাহ জাদরান। ওই ওভারে দুই ছক্কা ২টি চার ও দুই সিঙ্গেল মিলে ২২ রান আদায় করে নেন আফগান অলরাউন্ডার।

একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে যাওয়া গুলবাদিন নায়েব ৩৩ বলে ৩১ রান করে ফেরেন।

এর আগে ইনিংসের প্রথম ওভারে মিসেল স্টার্কের বলে স্ট্যাম্প ভেঙে যায় আফগান সেরা ওপেনার মোহাম্মদ শেহজাদের। ঠিক পরের ওভারে পেট কামিন্সের বলে ক্যাচ তুলে দেন অন্য ওপেনার হযরতউল্লাহ জাজাই।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে হাশমতউল্লাহ শহীদিকে সঙ্গে নিয়ে ৫১ রানের জুটি গড়েন রহমত শাহ। ৩৪ বলে মাত্র ১৮ রান করে ফেরেন হাশমতউল্লাহ। এরপর সময়ের ব্যবধানে উইকেট হারায় আফগানরা।

বিশ্বকাপের ১২তম আসরের চতুর্থ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলের কাউন্টি গ্রাউন্ডে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিশ্বকাপে এর আগে একটি মাত্র ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুই দল। সেই ম্যাচে জয় লাভ করে পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী দল অস্ট্রেলিয়া।

আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে এ পর্যন্ত উভয় দল ২টি ম্যাচে মুখোমুখি হয়। দুই ম্যাচে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়া এ পর্যন্ত ৯৩০টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ৫৬২টিতে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে বিশ্বকাপের মূল পর্বে প্রথমবার খেলার সুযোগ পাওয়া আফগানিস্তান খেলেছে মাত্র ১১৪টি ওয়ানডে ম্যাচ। এর মধ্যে জয় পেয়েছে ৫৯ ম্যাচে, আর হেরেছে ৫১টিতে।

বিশ্বকাপের মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বল টেম্পারিং কাণ্ডের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলে ফিরেছেন ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভ স্মিথ। তাদের অন্তর্ভূক্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে টিম অস্ট্রেলিয়া।

বিশ্বকাপের আগে আনুষ্ঠানিক দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে ইংল্যান্ড ও শ্রীলংকার বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় পায় অস্ট্রেলিয়া।

অন্যদিকে আফগানিস্তান নিজেদের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দেয়। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে বিশ্বকাপের স্বাগতিক দল ইংল্যান্ডের কাছে পাত্তাই পায়নি আফগানরা।

আফগানিস্তান: ৩৮.২ ওভারে ২০৭/১০ (নজিবুল্লাহ ৫১, রহমত শাহ ৪৩, গুলবাদিন নাইব ৩১, রশিদ খান ২৭, হাশমতউল্লাহ ১৮; পেট কামিন্স ৩/৪০, অ্যাডাম জাম্পা ৩/৬০)।









Leave a reply