শিক্ষার্থীকে মাদক দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে গণধোলাই খেলেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা

|

আসাদুজ্জামান ফারুক, ভৈরব প্রতিনিধি:

ভৈরবে শিক্ষার্থীকে মাদক দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন দুই পুলিশ অফিসার। এরা হলেন ভৈরব থানার এসআই আবুল খায়ের ও এসআই আজিজুল হক। শিক্ষার্থীর নাম সজীব আহমেদ (১৭); তার বাবার নাম সাব মিয়া। ওই শিক্ষার্থীর বাড়ি উপজেলার সম্ভুপুর এলাকায়।

সজীব সম্ভুপুর সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৮ টায়।

রাতে ঘটনার খবর পেয়ে ভৈরব থানার অন্যান্য পুলিশ অফিসারগন ঘটনাস্হলে গিয়ে দুই অফিসারকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে। এসময় পুলিশ সজীবের বাবাসহ ৬ জন সাধারন নাগরিগকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবী মদের বোতল দিয়ে শিক্ষার্থীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে দুই পুলিশ অফিসার। তবে দুই পুলিশ অফিসার গণধোলাইয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। স্হানীয় অসংখ্য লোকজনের দাবী মাদক দিয়ে ছাত্রকে ফাঁসানোর চেষ্টা করলে পুলিশ গণধোলায়ের শিকার হয়েছে।

সজীবের পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, মোটরসাইকেল চড়ে সজীব দুই বন্ধুকে নিয়ে শনিবার সন্ধ্যার পর ভৈরব বাজারে ঈদের কেনাকাটা করতে যায়। বাসায় ফেরার পথে শহরের চান্দ ভান্ডারের কাছে তারা পৌঁছলে ইউনিফর্ম ছাড়া ওই দুই পুলিশ অফিসার খায়ের ও আজিজুল ইশারা দিয়ে তাদের সাইকেলের গতিরোধ করে।

থামিয়ে তাদেরকে পুলিশ কর্মকর্তারা বলতে শুরু করেন, ‘তোদের কাছে মদ আছে।’ পুলিশের কথায় ভয় পেয়ে সজীবের দুই বন্ধু তাদের মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে গেলেও সজীব আটকে যায়। এসময় এসআই খায়ের সজীবকে বলেন, তোর থানায় যেতে হবে এবং সজীবের সাইকেলে এসআই আজিজুলকে পিছনে তুলে দেন। এসময় সজীব এসআই আজিজুলকে নিয়ে দ্রুত তার বাড়ি সম্ভুপুরের দিকে চলে যেতে থাকেন।

এসআই খায়ের ঘটনা দেখে তার মোটরসাইকেল নিয়ে সজীবের পিছনে ছুটতে থাকেন। সম্ভুপুর এলাকায় পৌঁছে সজীব মোটরসাইকেল ফেলে দৌড়ে বাসায় গিয়ে ঘটনাটি খুলে বলে। তার বাবা ঘটনা শুনে স্থানীয়দের ডাক দিলে দুই পুলিশকে ধরে গণধোলাই দেয়া হয়।

এসময় এলাকার মুরুব্বিরা জনতার হাত থেকে দুই পুলিশকে উদ্ধার করে আটকে রাখেন। পরে ভৈরব থানায় খবর দিলে অন্য পুলিশ এসে দুই সহকর্মীকে উদ্ধার করে। এসময় পুলিশ সজীবের বাবাসহ ৬ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

সজীবের বাবা সাব মিয়া এই প্রতিনিধিকে বলেন, আমার ছেলে মাদক সেবন কখনও করে না। পুলিশ আমার ছেলে মাদক দিয়ে ফাঁসাতে চেয়েছিল।

এলাকার বোরহান মিয়া জানান, আমিসহ কয়েকজন পুলিশকে জনতার হাত থেকে রক্ষা করি। তিনি বলেন, সজীব ছেলেটি কখনও নেশা করতে দেখেনি এবং মাদকের ব্যবসার সাথে জড়িত নয়। ভাল ছেলেকে পুলিশ মাদক দিয়ে ফাঁসাতে চেয়ে তারা নিজেরাই ফেঁসে গেছে।

অভিযুক্ত দুই পুলিশ এসআই খায়ের ও আজিজুল হক জানান, সজীবের হাতে মদের বোতল ছিল। তাই তাকে আটক করেছিলাম। মাদক দিয়ে ফাঁসানোর কথা দুজনই অস্বীকার করেন।

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মোখলেছুর রহমান জানান, সজীবের হাতে মদ থাকায় পুলিশ তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসার সময় সজীবসহ তিন বন্ধু পালিয়ে যায়। এসময় সজীব এস আই আজিজুলকে মোটরসাইকেলে নিয়েই পালিয়ে যেতে চাইলে খায়ের পিছনে ছুটে যায়। পুলিশ গণধোলাইয়ের শিকার হওয়ার ঘটনা তিনি অস্বীকার করেন।









Leave a reply