বঙ্গবন্ধুকে হারানোর দিন

|

বঙ্গবন্ধুকে হারানোর দিন আজ। শোকের ১৫ আগস্ট।
৪১ বছর আগের এই দিন ভোরে, বিশ্বাসঘাতকদের বুলেটে বিদীর্ণ হয় জাতির জনকের বুক। স্তব্ধ হয় আরও ২৭টি তাজা প্রাণ। পরিবারসহ পুরো বংশকে প্রাণে মেরে ঘাতকরা চেয়েছিলো ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে। সে কারণেই হত্যাযজ্ঞের আগের রাত থেকেই হত্যা প্রক্রিয়া শুরু করে তারা।  বিদেশে থাকায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

দিনটি ছিল শুক্রবার। সকালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে যাবেন বঙ্গবন্ধু। আগের রাতটা বক্তৃতা প্রস্তুতির ব্যস্ততায় কাটে তাঁর সময়। জীবনের শেষ সকালটা কত ভয়ানকভাবে তাঁর সামনে হাজির হচ্ছে তা ছিল কল্পনার অতীত।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে বিপথগামী সেনাসদস্যরা অবস্থান নিয়েছিল ধানমন্ডি ৩২-এর পাশের বাড়িতে। ভোর ৫ টার দিকে, তিনটি কিলিং মিশনের প্রথমটি হয় বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায়। সেরনিয়াবাতের মেয়ে বেবি, ছেলে আরিফ, নাতি বাবু, ভাতিজা শহীদ সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে আব্দুল নইম খান রিন্টু, তিন অতিথি এবং চার গৃহকর্মীকে হত্যা কর হয় খুনি মেজর ডালিমের নেতৃত্বে।

এরপর কয়েক মিনিটের ব্যবধানে স্বপরিবারে হত্যা করা হয় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ঘাতকরা সেদিনে শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।

কাছাকাছি সময়ে, রিসালদার মোসলেমউদ্দিনের নেতৃত্বে হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফজলুল হক মণি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনিকে।

সেদিন অনেকটা ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর আত্মীয়-স্বজনদের কয়েক জন। বিদেশে থাকায়, বেঁচে যান তাঁর দুই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। পরিবারসহ পুরো বংশকে প্রাণে মেরে ঘাতকেরা চেয়েছিলো ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে। তাই প্রায় একই সময়ে বঙ্গবন্ধু ভবনসহ ধানমন্ডির তিনটি বাড়িতে আক্রমণ চালিয়ে জাতির জনকসহ ২৮ জনকে হত্যা করে উচ্ছৃঙ্খল বিপথগামী সেনাসদস্যরা।

যমুনা অনলাইন-এফআর









Leave a reply