হত্যা মামলার আসামিকে থানা থে‌কে ছা‌ড়াতে ব্যর্থ সা‌বেক ছাত্রলীগ‌ নেতা

|

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীতে ছিনতাই করতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে চাঞ্চল্যকর কলেজ ছাত্র মাহাবুব হত্যাসহ তিনটি মামলার আসামি জিএম জহির রায়হান(২৮)। এসময় জহিরের সহযোগী রুবেল নামে আরও একজনকে আটক করলেও পালিয়ে যায় দীপু নামে জহিরের আরেক সহযোগী।

যদিও গ্রেফতার ও আটককৃতদের থানা থেকে মুক্ত করতে জোরালো তদবির, দেনদরবার চালিয়ে সম্পূর্ন ভাবে ব্যর্থ হয় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ও সেচ্ছাসেবকলীগের নেতা। কিন্তু অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) শেখ বিলাল হোসেনের কঠোর পদক্ষেপের কারণে তা ভেস্তে যায়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে দস্যুতার একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পটুয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) শেখ বিলাল হোসেন যমুনা নিউজকে জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার দিকে শহরের চৌরাস্তা এলাকায় জহির, রুবেল এবং দীপু ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ইব্রাহীম নামে এক যুবককে ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়। এসময় ইব্রাহীমকে ব্যাপক মারধর করে ছিনতাইকারী দলটি। ঘটনার সময় টহলরত এএসপি শেখ বিলাল হোসেন হাজির হয়ে জহির এবং রুবেলকে আটক করে।

এসময় তাদের কাছ থেকে একটি ধারালো ছুড়ি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আহত অবস্থায় ভিকটিম ইব্রাহীমকে তাৎক্ষনিক পটুয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় পুলিশ। গ্রেফতারকৃত জহির ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে পটুয়াখালী সরকারী কলেজ ছাত্র মাহাবুবকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অন্যতম আসামি। এছাড়াও জহিরের বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা চলমান রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

এদিকে, জহিরকে আটক করা হয়েছে এমন খবর শুনে তাৎক্ষনিক থানায় হাজির হয় পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ও সেচ্ছাসেবকলীগ এক নেতা। পরে জহিরকে মুক্ত করতে একাধিক মহল থেকে জোড় তদবির চালায় ছাত্রলীগ ও সেচ্ছাসেবকলীগ নেতাদ্বয়। এক পর্যায় ভিকটিম ইব্রাহীমকে ম্যানেজ করে মুচলেখা দিয়ে মুক্ত করার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়।

এসময় একটি মহল জহিরের পুরোনো রের্কড পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মইনুল হাসান এবং এএসপি হেটকোয়ার্টার বিলাল হোসেনকে জানালে বন্ধ হয়ে যায় ছিনতাইকারীদের মুক্ত প্রক্রিয়া। তাৎক্ষনিক থানায় হাজির হয়ে এএসপি বিলাল হোসেন জহিরের পুরোনো রেকর্ড তল্লাশি করলে নানা তথ্য বের হয়ে আসে। এক পর্যায়ে তাদের বিরুদ্ধে দস্যুতার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের হয় পটুয়াখালী সদর থানায়। আটককৃত রুবেল ও পালিয়ে যাওয়া দীপুর বাড়ী পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলায়।









Leave a reply