বোরখা পড়ে স্কুলছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা 

|

কাজী তানভীর মাহমুদ, রাজবাড়ী

রাজবাড়ী জেলা সদরের পাচুরিয়া ইউনিয়নে জুথি খাতুন (১৭) নামে এক কিশোরী কে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।এ ঘটনায় রাজবাড়ী সদর থানায় ভূক্তভোগী কিশোরীর বাবা ফজলুর রহমান ব্যাপারী বাদী হয়ে এক নারী সহ অজ্ঞাত কয়েকজন কে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৬ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে পাচুরিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের খোলাবাড়িয়া গ্রামে।

ঘটনার শিকার কিশোরী জেলা সদরের খানখানাপুর তমিজউদ্দিন খান উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির মানবিক শাখার ছাত্রী। সে পাচুরিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের খোলাবাড়িয়া গ্রামের ফজলুর রহমান ব্যাপারীর মেয়ে। তবে মামলায় অভিযুক্ত নারী শিল্পী বেগম (৩৫ আনুমানিক) পালিয়ে গেছে।

জানা গেছে,অনেক দিন ধরেই প্রতিবেশী এক প্রবাসী মোঃ জাহাঙ্গীরের স্ত্রী শিল্পী বেগম নানা ভাবে তার অনৈতিক কর্মকান্ডে যোগ দেবার জন্য কিশোরী জুথি কে বিরক্ত করে আসছে। কিছু দিন আগে জোর করে কিশোরী কে একটি ঘরে আটকে রেখে আপত্তিকর ছবি তুলে মোটা অংকের টাকা চাদা দাবী করে। চাদা দিতে না পারায় একাধিকবার তাকে শারীরিকভাবে মারপিট করে

গত ৬ তারিখ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ি থেকে মুখ আটকে পাশ্ববর্তি পাট ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে হাত পা মুখ বেঁধে গায়ে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। পরে কিশোরীর আর্তনাদে তার মা ও এলাকাবাসী ছুটে আসলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। উদ্ধারকৃত কিশোরী জানায় হত্যা চেষ্টায় ৪ জনই বোরখা পরিহিত ছিলো। তাদের মুখমন্ডল হেজাব দিয়ে ঢাকা ছিলো।

হামলার শিকার কিশোরী জুথি খাতুন জানায়,ঘটনার দিন দুপুরে বাড়ির ওঠানে বসে থাকার সময় দুই জন পিছন থেকে মুখ আটকে বাড়ির পিছনের দিকে একটি পাট ক্ষেতে নিয়ে যায়।সেখানে আরও দুই জন বোরখা পরিহিত লোক দ্রুত হাত মুখ ও পা বেঁধে ফেলে।এরপর শরীরে আগুন ধরানোর জন্য ম্যাচের কাঠি বের করে।এসময় আর্তনাদে মা ও স্থানীয়রা ছুটে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

মেয়েটির বাবা ফজলুর রহমান ব্যাপারী বলেন,মেয়ের সাথে এমন ভয়ংকর ঘটনায় বর্তমানে পরিবারের সকল সদস্য আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।আমি দোষীদের শাস্তি চাই।

মা নাছিমা বেগম জানান,তিনি ঘটনার দিন মেয়ের আর্তনাদের শব্দ শুনতে না পারলে তার মেয়েকে সন্ত্রাসীরা হত্যা করতো।

ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন পাচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানর কাজী আলমগীর। তিনি বলেন, এমন লোমহর্ষক ঘটনার আর যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সেজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

ঘটনাস্থল ও ভূক্তভোগীদের বাড়িঘর পরিদর্শন শেষে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি সাংবাদিকদের জানান,ঘটনার সত্যতা ও প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ সময় ভূক্তভোগী কিশোরীর নিরাপত্তার ব্যাপারে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) স্বপন কুমার মজুমদার ও পাচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী আলমগীর কে নির্দেশ দেন।









Leave a reply