শপিংব্যাগে নবজাতক!

|

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

দিনমজুর সোহরাব গাজী বের হয়েছিলেন কৃষিকাজের জন্য। পথে শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পেয়ে চারিদিকে খুঁজতে থাকেন। এক পর্যায়ে ঝোপের পাশে মরিচ ক্ষেতে গিয়ে একটি শপিং ব্যাগের মধ্যে কান্নার শব্দ পান। ব্যাগ খুলে দেখেন এর মধ্যে একটি ফুটফুটে ছেলে নবজাতক। সদ্য ভূমিষ্ট হওয়া নবজাতকের নাভীর ‘ফুল’ পর্যন্ত কাটা হয়নি। পরে শিশুটিকে দ্রুত বাড়ি নিয়ে স্ত্রী নূরজাহান বেগমের কোলে তুলে দেন।

পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার পূর্ব কার্তিপাশা গ্রামে গত চার এপ্রিল মঙ্গলবার এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

এদিকে, নির্ধারিত সময়ের আট সপ্তাহ আগে ভূমিষ্ট হওয়ায় এক দিকে ওজন কম অন্যদিকে ফুসফুস সম্প্রসারিত না হওয়ায় তাকে বাঁচাতে দ্রুত ঢাকা নেয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের। আর চিকিৎসার সকল দায়িত্ব বহনের আশ্বাস দিয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা।

বর্তমানে অর্থের অভাবে শিশুটির সঠিক পরিচর্যার করতে পারছে না পরিবারটি। এরমধ্যে হতদরিদ্র পরিবারটি তিন থেকে চার হাজার টাকা খরচ করেছে।

সোহরাব গাজীর ছেলে স্থানীয় দোকানদার রিপন বলেন, নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা আমাদের। এখন পর্যন্ত তিন-চার হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। আর ঔষধ কিনতে পারছি না। ফলে আজকে আরও অসুস্থ্য হলে দুপুরে তাকে পটুয়াখালীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।

বর্তমানে নবজাতকটি হাসপাতালের ‘স্ক্যানু’ বিভাগে আছে। সেখানে দায়িত্বরত সেবিকা সুলতানা পারভিন শিরীন জানান, নবজাতকের ওজন মাত্র ৮শ ১৫গ্রাম; যেখানে স্বাভাবিক নবজাতকের থাকার কথা ২৫শ গ্রাম। ভর্তির পর যাবতীয় সব চিকিৎসা সেবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দিয়েছে।

হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ সিদ্বার্থ সাহা জানান, স্বাভাবিকভাবে সন্তান ভূমিষ্ট হতে ৪০ সপ্তাহ সময় দরকার। সেখানে এই সন্তানটি আনুমানিক ৩০ থেকে ৩২ সপ্তাহ তার মায়ের গর্ভে ছিল। নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৮ সপ্তাহ আগে নবজাতকটি ভূমিষ্ট হওয়ায় তার ফুসফুস অপূর্নাঙ্গ। এতে স্বাভাবিকভাবে অক্সিজেন গ্রহণ করতে না পারায় ক্রমশই ফুসফুস সংকুচিত হচ্ছে। এমন অবস্থায় দ্রুত ঢাকা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই শিশু বিশেষজ্ঞ।

এদিকে, নবজাতক পাওয়ার খবরে হাসপাতালে ছুটে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শেখ বেলাল হোসেন। ঔষধসহ নবজাতককে বাঁচাতে সব ধরনের দায়িত্ব বহন করার ইচ্ছা পোষণ করছেন তিনি।

এসময় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধী হলে নবজাতকের বাবা-মাও ছাড় পাবেনা।









Leave a reply