ধর্ষণচেষ্টাকারী সেই প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় ঘেরাও এলাকাবাসীর

|

স্টাফ রির্পোটার, নেত্রকোণা:

নেত্রকোণার বারহাট্টায় আসমা ইউনিয়নের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। গত সোমবার বিকেলে ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রী (১৪) বাদী হয়ে বারহাট্টা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি করেন।

মামলার পর থেকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক পলাতক রয়েছেন। এ দিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিক্ষুব্ধ লোকজন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা, মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক আইন উদ্দিন গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ শ্রেণির ওই মেয়েটিকে বিদ্যালয়ে তাঁর কক্ষের শৌচাগারে জড়িয়ে ধরেন। পরে ব্যবহৃত ওড়না দিয়ে মেয়েটির মুখ বেঁধে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় ভয়ে মেয়েটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এক পর্যায়ে শিক্ষক তার চোখে মুখে পানি ছিটিয়ে সুস্থ করে তুলেন একই সঙ্গে ঘটনাটি কাউকে না জানাতে ভয়ভীতি দেখান।

মেয়েটি ওই দিন স্থানীয় দোকান থেকে ঘুমের ওষুধ সংগ্রহ করে বাড়িতে গিয়ে তা খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। পর দিন বিষয়টি তার বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে জানায়। স্ত্রীর কাছ থেকে শুনে ওই দিন বিকেলে বড় ভাই বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদা ইয়াসমিন ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মাইনুল হকের কাছে বিচার চান।

তাঁদের নির্দেশে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু পুলিশ এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। এ ঘটনার প্রায় চার মাস পর গত সোমবার বিকেলে মেয়েটি নিজে বাদী হয়ে বারহাট্টা থানায় ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।

মামলার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এদিকে প্রধান শিক্ষকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিকে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে স্থানীয়রা বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে এসে জড়ো হয়। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ করেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বারহাট্টা সার্কেল) মো. শফিউল ইসলামের নেতৃত্বে থানা পুলিশ এসে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

অভিযোগকারী ওই মেয়েটি সাংবাদিকদের বলেন, ‘হেড স্যার গত জানুয়াররির শেষ দিকে আমার সঙ্গে পড়ে এক বান্ধবীকে ওই শৌচাগারের ভেতরে নিয়ে এ রকম করেছিলেন। ওই সময় বিষয়টি আমি দেখে ফেলায় তিনি আমারকে ভয়ভীতি দেখিয়েছিলেন। এরপর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরের দিকে আমাকে তাঁর কক্ষে ডেকে নিয়ে খাবার খাওয়ার কয়েটি প্লেট ধুতে বলেন। আমি শৌচাগারে প্লেটগুলো ধুতে গেলে তিনি কৌশলে সেখানে গিয়ে প্রথমে একটি তোয়ালে দিয়ে আমার মাথা ও মুখ ঢেকে ফেলেন। পরে আমার ওড়না দিয়ে মুখ বেঁধে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। আমার জ্ঞান ফিরলে তিনি বলেন, তুই ওই দিনের ঘটনাটি যেহেতু দেখে ফেলেছিলে তাই তোকেও এমন করলাম। বিষয়টি এখন কাউকে জানালে তোকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেব ও মেরে ফেলবো।’

বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানার ওসিকে বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে কোন ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বারহাটটা সার্কেল) মো. শফিউল ইসলাম বলেন, ‘আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।’









Leave a reply